আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ফের ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। একদিকে যখন ওমান উপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে কৌশলগত যৌথ নৌ-মহড়া চালাচ্ছে ইরান ও রাশিয়া, ঠিক তখনই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক শক্তিচালিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড' (USS Gerald R. Ford)-কে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে তড়িঘড়ি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও রাশিয়ার এই সামরিক মহড়ায় যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার এবং বিশেষ কমব্যাট স্পিডবোট অংশ নিয়েছে। এর কিছুদিন আগেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল বাণিজ্য পথ, হরমুজ প্রণালীতে ইরান নিজেদের সামরিক মহড়া চালিয়েছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' (USS Abraham Lincoln) এবং একাধিক মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগে থেকেই ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। এর সাথে 'জেরাল্ড ফোর্ড' যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক শক্তি নজিরবিহীন আকার ধারণ করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, পেন্টাগন যেকোনো মুহূর্তে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
কূটনৈতিক স্তরেও উত্তেজনা চরমে। সম্প্রতি জেনেভা এবং ওমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা হলেও তা থেকে চূড়ান্ত কোনো সমাধান আসেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে নতুন চুক্তিতে আসার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিনের একটি কড়া চরমসীমা (deadline) বেঁধে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে ইরানকে "ভয়াবহ পরিণতি" ভোগ করতে হবে।
বর্তমান এই উত্তেজনার শিকড় লুকিয়ে আছে গত বছরের (২০২৫ সালের জুন) ঘটনাবলীতে। সেসময় ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের একটি তীব্র যুদ্ধ হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছিল (অপারেশন মিডনাইট হ্যামার)।
আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মুখেও রয়েছে ইরানের সরকার। গত ডিসেম্বর (২০২৫) মাস থেকে অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমন করেছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর এই দমন-পীড়ন বন্ধ করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিকে 'রেড লাইন' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে, একদিকে ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি এবং অন্যদিকে দেশের ভেতরের অস্থিরতা—এই দুই ইস্যুতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দড়ি টানাটানি এক চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊