Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, আতঙ্কে অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, আতঙ্কে অর্থনীতি

জ্বালানি তেলের দাম, বিশ্ব অর্থনীতি, অপরিশোধিত তেল, ব্রেন্ট ক্রুড, হরমুজ প্রণালী, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ক্রুড অয়েল প্রাইস, Global oil price, Brent crude, Strait of Hormuz, Middle East conflict impact, Oil market news Bangla.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ইরান-রাশিয়ার যৌথ সামরিক নৌ-মহড়া এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (Crude Oil) দাম হু হু করে বাড়ছে।


জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মূল কারণ হলো 'হরমুজ প্রণালী'। এটি পারস্য উপসাগরের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সরু জলপথ, যেখান দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই জলপথে ইরানের 'লাইভ-ফায়ার' মহড়া এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজের টহলদারির কারণে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে (Supply chain) বড়সড় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, কোনো সামরিক সংঘাত বাধলে এই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


এই ভূ-রাজনৈতিক আশঙ্কার জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম একধাক্কায় কয়েক শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা থমকে থাকা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া চরমসীমার (Deadline) পর বাজারে এই অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।


জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) কালো ছায়া দেখা দিয়েছে। ভারত ও চীনের মতো দেশ, যারা তাদের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয় বা কোনো প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। যা করোনা-পরবর্তী ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনি সংকেত। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code