পদত্যাগের ঝড়ে ব্রিটেন! ম্যান্ডেলসন-এপস্টাইন বিতর্কের মুখে স্টারমারের অনড় অবস্থান ও লেবার সরকারের গভীর সংকট
লন্ডন, যুক্তরাজ্য: ব্রিটেনে লেবার সরকারের অভ্যন্তরে সংকট এখন চরম পর্যায়ে। একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা এবং পিটার ম্যান্ডেলসনকে কেন্দ্র করে জেফ্রি এপস্টাইন বিতর্কে টালমাটাল ব্রিটিশ রাজনীতি। তবে প্রচণ্ড চাপের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার সহ দলের একাংশের পদত্যাগের দাবির মুখেও স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পিছু হটবেন না।
সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন, যাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্টারমার সরকার। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে ম্যান্ডেলসনের সাথে কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টাইনের গভীর সম্পর্কের তথ্য উঠে আসে।নথিতে দাবি করা হয়েছে, ২০০৯ সালে ম্যান্ডেলসন যখন সরকারে ছিলেন, তখন তিনি এপস্টাইনের সাথে সংবেদনশীল ও গোপন সরকারি তথ্য শেয়ার করেছিলেন। এর মধ্যে ইউরোজোন সংকট সম্পর্কিত ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর বেলআউট প্যাকেজ এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে পাঠানো অভ্যন্তরীণ ইমেলের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ম্যান্ডেলসন তার পরামর্শক সংস্থার জন্য এপস্টাইনের সহায়তা চেয়েছিলেন এবং বিনিময়ে এপস্টাইন তাকে বিপুল অর্থ প্রদান করেছিলেন। সরকারের অন্দরমহলে অস্থিরতার প্রমাণ মেলে পরপর দুটি হাই-প্রোফাইল পদত্যাগের ঘটনায়।
১. টিম অ্যালেন (যোগাযোগ পরিচালক): মাত্র পাঁচ মাস আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যোগ দেওয়া এই অভিজ্ঞ কৌশলবিদ সোমবার পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন দল গঠনের সুবিধার্থে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
২. মরগান ম্যাকসুইনি (চিফ অফ স্টাফ): এর আগে পদত্যাগ করেন চিফ অফ স্টাফ ম্যাকসুইনি। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ম্যান্ডেলসনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য তিনি স্টারমারকে অনুরোধ করেছিলেন, যা বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।
পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি সমালোচনার চাপে নতি স্বীকার করবেন না। তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট:স্টারমার বলেন, দেশ পরিবর্তনের জন্য তিনি যে ম্যান্ডেট পেয়েছেন, তা থেকে তিনি সরে আসবেন না। দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে তিনি নারাজ।
নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মানুষ বলেছিল আমি পারব না, কিন্তু আমরা নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছি। আমি আমার ক্যারিয়ারের প্রতিটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।"
দৃঢ় অবস্থান দেখালেও স্টারমার স্বীকার করেছেন যে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ একটি "ভুল সিদ্ধান্ত" ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যান্ডেলসন তাদের সম্পর্কের বিষয়ে তাকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। রাজনীতির ওপর থেকে জনসাধারণের আস্থা কমে যাওয়াকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুশোচনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
বিরোধী দল এবং খোদ লেবার পার্টির এমপিদের এখন প্রশ্ন—সরকার কি এই ধাক্কা সামলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবে, নাকি এই কেলেঙ্কারি স্টারমার সরকারের পতন ডেকে আনবে?
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ