Epstein Files: প্রতি বছর ‘গায়েব’ ৮০ লক্ষ শিশু! ধনকুবেরদের লালসার শিকার অনাথরা? জানুন অন্ধকারের ভয়ংকর সত্য
আধুনিক সভ্যতার চাকচিক্যের আড়ালে পৃথিবীর বুকে যে এক গভীর অন্ধকার জগত সমান্তরালভাবে চলছে, তার প্রমাণ মিলছে বারবার। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা 'এপস্টিন ফাইলস' (Epstein Files) সেই অন্ধকারের দিকেই নতুন করে আঙুল তুলেছে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, আর অভিযোগ—এই শিশুদের একাংশকে ব্যবহার করা হচ্ছে ধনকুবের এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিকৃত 'খিদে' মেটানোর জন্য।
ভয়াবহ পরিসংখ্যান: পৃথিবী থেকে উধাও শৈশব
শিশুরাই ভবিষ্যতের কাণ্ডারি—এই আপ্তবাক্য বইয়ের পাতায় থাকলেও, বাস্তবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন আজ প্রকট। পরিসংখ্যান আঁতকে ওঠার মতো:
আমেরিকার পরিস্থিতি: তথাকথিত উন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ছবিটা ভীতিপ্রদ। সেখানে প্রতি বছর প্রায় ৮ লক্ষ ৪০ হাজার শিশু উধাও হয়ে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, আটলান্টিক পারের দেশটিতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একটি করে শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হয়।
Epstein Files ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশ
এফবিআই (FBI)-এর দাবি অনুযায়ী, শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগগুলির অধিকাংশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হলেও, বহু ঘটনা চিরকাল ধোঁয়াশাতেই থেকে যায়। এখানেই উঠে আসছে জেফরি এপস্টিন এবং তার কুখ্যাত 'দ্বীপ'-এর প্রসঙ্গ।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এপস্টিন ফাইলসে (Epstein Files) অভিযোগ উঠেছে যে, রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিশ্বের তাবড় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে শিশু পাচারকারীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, অর্থের জোরে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু নিখোঁজ মামলা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। অনাথ এবং অসহায় শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে বা অপহরণ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের জন্য ব্যবহার করার মতো গুরুতর অভিযোগ এই নথিতে উঠে এসেছে।
কোথায় হারিয়ে যায় এই শিশুরা?
'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন' (ICMEC)-এর মতো সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, নিখোঁজ শিশুদের একটা বড় অংশ আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের শিকার হয়। এদের মূলত দুটি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়:
১. যৌনদাসী হিসেবে: বিভিন্ন দেশে এদের পাচার করে যৌন ব্যবসায় নামানো হয়।
২. অবৈধ অঙ্গ পাচার: অনেক ক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের জন্যও শিশুদের টার্গেট করা হয়।
ইতিহাসের পাতা থেকে: কিছু অমীমাংসিত ও শিহরণ জাগানো ঘটনা
এপস্টিন (Epstein Files) বিতর্ক নতুন করে উস্কে দিয়েছে অতীতের কিছু রোমহর্ষক অপহরণের স্মৃতি। শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলো এমন কিছু ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে যা প্রমাণ করে এই 'নেটওয়ার্ক' কতটা গভীর:
সাবিন ডার্ডেন (বেলজিয়াম): ১৯৯৬ সালে, ১২ বছর বয়সী সাবিন সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহৃত হন। এক কুখ্যাত শিশু যৌননিগ্রহকারী তাকে তুলে নিয়ে যায়।
এপস্টিন ফাইলস (Epstein Files) শুধুমাত্র কিছু নথিপত্র নয়, এটি বিশ্বব্যাপী শিশু পাচার ও শোষণের এক কদর্য প্রতিচ্ছবি। প্রশাসন এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও, টাকা ও ক্ষমতার জোরে এই অপরাধচক্র আজও সক্রিয়। প্রতি বছর ৮০ লক্ষ শিশুর নিখোঁজ হওয়া শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি মানবতার প্রতি এক চরম লজ্জা। সমাজ ও প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে আরও অনেক নাতাশা বা সাবিনকে হারিয়ে যেতে হবে অন্ধকারের গর্ভে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊