Supreme Court of India: বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালীন বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্ক এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছে। বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্না এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ তরুণ-তরুণীদের বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। নিচে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য এবং প্রামাণ্য উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি অনুচ্ছেদ আকারে দেওয়া হলো।
শীর্ষ আদালতে 'ওয়াই কে বনাম স্টেট গভর্নমেন্ট অফ এনসিটি অফ দিল্লি' মামলার শুনানি চলছিল। প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ত্রিশ বছর বয়সী এক মহিলার সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দিল্লি এবং পরে দুবাইতে ওই মহিলার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারীর আরও দাবি যে, দুবাইতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্মতি ছাড়াই তার অন্তরঙ্গ ভিডিও রেকর্ড করে এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। পরবর্তীতে ওই মহিলা জানতে পারেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত ছিল এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সে পাঞ্জাবে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেছে।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্না মহিলার বিয়ের আগে বিদেশে ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা হয়তো একটু সেকেলে, কিন্তু সবারই খুব সাবধান হওয়া উচিত এবং বিয়ের আগে কারোরই কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। বেঞ্চ আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, সম্পর্কের গভীরতা যতই হোক না কেন, বিয়ের আগে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আদতে পরস্পরের কাছে অপরিচিতই থাকে।
বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তারা বুঝতে পারেন না যে তরুণ-তরুণীরা বিয়ের আগে কীভাবে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে। সরকারি আইনজীবী যখন জানান যে তাদের ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে দেখা হয়েছিল এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন, তখন বিচারপতি স্পষ্ট জানান যে, মহিলা যদি বিয়ের বিষয়ে এতটাই কঠোর হতেন, তবে বিয়ের আগে তার এভাবে দুবাই যাওয়া উচিত হয়নি।
আদালত এই মামলাটির প্রেক্ষাপটকে একটি সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করেছে। বেঞ্চের মতে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি হয়, সেখানে প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও তা সব ক্ষেত্রে সরাসরি ফৌজদারি বিচার বা দোষী সাব্যস্ত করার জন্য উপযুক্ত নয়। এর পরিবর্তে, আদালত উভয় পক্ষকে আইনি লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যা নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি তালিকাভুক্ত করেছে।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊