2000 Rupee Note : ৯৮.৪২% নোটই ফিরল ঘরে! এখনো যাঁদের কাছে আছে, তাঁদের জন্য আরবিআই-এর জরুরি বার্তা
মুম্বই: ২০০০ টাকার নোট প্রত্যাহার করার পর কেটে গিয়েছে আড়াই বছরেরও বেশি সময়। ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ স্থিতি বা 'স্ট্যাটাস রিপোর্ট' প্রকাশ করল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত ২০০০ টাকার নোটের সিংহভাগই এখন ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে ফিরে এসেছে। তবে এখনো সামান্য কিছু অংশের নোট জনগণের হাতে রয়ে গিয়েছে, যা দ্রুত জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক।
বর্তমান পরিসংখ্যান কী বলছে?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, ১৯ মে ২০২৩-এ যখন নোট প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন বাজারে মোট ৩.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ টাকার নোট ছিল। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে ৯৮.৪২ শতাংশ নোটই ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে বাজারে মাত্র ৫,৬০৯ কোটি টাকার ২০০০ টাকার নোট অবশিষ্ট রয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের হাত থেকে এই উচ্চমূল্যের নোট প্রায় উধাও।
নোট বদল বা জমার পদ্ধতি
যাঁদের কাছে এখনো এই গোলাপি নোট গচ্ছিত আছে, তাঁদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে:
১. সরাসরি আরবিআই অফিস: দেশের ১৯টি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ইস্যু অফিসে (Issue Offices) গিয়ে এই নোট জমা দেওয়া বা বদলানো যাবে।
২. ডাকঘর পরিষেবা: যাঁরা আরবিআই অফিসের কাছাকাছি থাকেন না, তাঁরা নিকটবর্তী পোস্ট অফিসের মাধ্যমে 'ইন্ডিয়া পোস্ট'-এর সাহাজ্যে এই নোটগুলি আরবিআই-এর কাছে পাঠাতে পারেন। এই টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
নিয়মকানুন ও কেওয়াইসি (KYC)
আরবিআই জানিয়েছে, নোট জমা করার কোনো নির্দিষ্ট উর্ধ্বসীমা নেই। তবে সাধারণ ব্যাঙ্কিং নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে:
- যেকোনো পরিমাণ নোট জমার ক্ষেত্রে কেওয়াইসি (KYC) নিয়ম মানতে হবে।
- জন ধন অ্যাকাউন্ট বা বেসিক সেভিংস অ্যাকাউন্টে একদিনে ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা দিতে হলে প্যান (PAN) কার্ডের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- ছোট অঙ্কের জমার ক্ষেত্রে প্যান কার্ডের প্রয়োজন নেই।
আইনি বৈধতা ও আরবিআই-এর পরামর্শ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, ২০০০ টাকার নোট এখনো বৈধ বা 'লিগ্যাল টেন্ডার' হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অর্থাৎ এটি রাখা বেআইনি নয়। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, দৈনন্দিন লেনদেনে অসুবিধা এড়াতে এবং নিরাপদ আর্থিক ভবিষ্যতের স্বার্থে, হাতে থাকা অবশিষ্ট নোটগুলি যত দ্রুত সম্ভব নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জমা করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
যেহেতু ৯৮ শতাংশেরও বেশি নোট ফিরে এসেছে, তাই অর্থনীতিতে এই নোটের প্রভাব এখন নগণ্য। তবুও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাকি ১.৫৮% নোটও ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে ফিরিয়ে আনতে তৎপর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊