ঐতিহ্যের ৭৩ বছর: পলিকা শ্রীশ্রী মনস্কামনা কালী পূজা ও মাঘী পূর্ণিমা স্নান মেলায় ভক্তের ঢল, জানুন অলৌকিক ইতিহাস
তুফানগঞ্জ, কোচবিহার: ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আবারও সেজে উঠেছে কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পলিকা গ্রাম। ভক্তি, বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের মিশেলে আজ ৭৩ তম বর্ষে পদার্পণ করল পলিকা শ্রীশ্রী মনস্কামনা কালী পূজা ও ঐতিহ্যবাহী মাঘী পূর্ণিমা স্নান মেলা। একসময় মাত্র ১৭ জন পুণ্যার্থী নিয়ে শুরু হওয়া এই পূজা আজ লক্ষাধিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
পলিকা গ্রামের এই পূজার ইতিহাস বেশ অলৌকিক। ১৩৬০ বঙ্গাব্দের এক গভীর রাতে কালীসাধক যতীন্দ্র মোহন নাথ মহাশয় এক দৈব স্বপ্নাদেশ পান। দেবী কালিকা তাঁকে নির্দেশ দেন পলিকা বিলের ধারে, যেখানে শনী বর্মন প্রাচীন বটগাছের নিচে ‘বুড়া ঠাকুর’-এর পূজা করতেন, সেখানেই যেন মাঘী পূর্ণিমার পুণ্যতিথিতে মায়ের পূজা ও স্নানের আয়োজন করা হয়। এই স্বপ্নাদেশের পর শনী বর্মনের সহযোগিতায় এবং যতীন্দ্র মোহন নাথের উদ্যোগে পাটকাঠির এক ছোট্ট মন্দিরে প্রথম পূজার সূচনা হয়। সেই সময় মাত্র ১৭ জন পুণ্যার্থী নিয়ে শুরু হওয়া এই স্নানপর্বকে অনেকে উপহাস করলেও, আজ তা এক বিশাল মহীরূহের আকার ধারণ করেছে।
এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘কালী গঙ্গা’ নামক পবিত্র জলাশয়ের ইতিহাস। ১৩৬০ বঙ্গাব্দে প্রথম স্নান অনুষ্ঠিত হওয়ার পরের বছরই, ১৩৬১ বঙ্গাব্দে এক ভয়াবহ বন্যায় পলিকা বিলের অধিকাংশ ভরাট হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মন্দিরের সামনের অংশে একটি পুকুরের মতো জলাশয় সৃষ্টি হয়, যা আজও বিদ্যমান। ভক্তদের বিশ্বাস, মায়ের ইচ্ছেতেই এই জলাশয়ের সৃষ্টি, তাই এর নাম দেওয়া হয় ‘কালী গঙ্গা’। আজও লাখো ভক্ত বিশ্বাস ও ভক্তি নিয়ে এই পবিত্র জলে ডুব দিয়ে পুণ্যস্নান করেন।
সময়ের সাথে সাথে পলিকা গ্রামের সেই পাটকাঠির মন্দির আজ সুদৃশ্য পাকা মন্দিরে রূপান্তরিত হয়েছে। মন্দিরের চূড়া বহুদূর থেকে দৃশ্যমান। মেলা প্রাঙ্গণে এখন আর সেই নির্জনতা নেই, বরং তা হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। মাঘী পূর্ণিমার এই পুণ্যতিথিতে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমে এবং হাজারও দোকানের পসরায় পলিকা গ্রাম এখন উত্তরবঙ্গের অন্যতম ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মনস্কামনা পূরণের আশায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এই ঐতিহাসিক মেলায়।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ