NCERT book controversy: বিচার বিভাগে দুর্নীতির উল্লেখ ঘিরে তোলপাড়, বিক্রি স্থগিত করে ক্ষমা চাইল বোর্ড
অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞানের একটি নতুন পাঠ্যপুস্তকে "বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি" সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এনসিইআরটি (NCERT)-কে বিতর্কিত বইটির বিক্রি ও প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে ইতিমধ্যেই NCERT-র কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে মন্ত্রণালয়।
NCERT-র বিবৃতি ও ক্ষমা প্রার্থনা
তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে এনসিইআরটি (জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কাউন্সিল) আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি অষ্টম শ্রেণির জন্য প্রকাশিত সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক, 'এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড, খণ্ড II' (Exploring Society: India and Beyond, Volume II)-এর চতুর্থ অধ্যায়ে অসাবধানতাবশত কিছু ত্রুটিপূর্ণ উপাদান যুক্ত হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই বইটির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এনসিইআরটি জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সাক্ষরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জাগিয়ে তোলা। কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুণ্ন করার বা তাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে বিতর্কিত অধ্যায়টি দ্রুত সংশোধন করা হবে এবং আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা পুনরায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য উপলব্ধ করা হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বুধবার এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি জানান- বিচার বিভাগের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অপমান বা অবমাননা করার অনুমতি কাউকে দেওয়া উচিত নয়।
তাঁর এই মন্তব্য চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। আইন বিশেষজ্ঞরাও সহমত পোষণ করে জানিয়েছেন যে, স্কুল স্তরের পড়ুয়াদের পাঠ্যবইয়ে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা উচিত।
সরকারের অবস্থান কী?
সরকারি সূত্রের তরফে জানানো হয়েছে যে, NCERT একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হলেও, এই ধরনের বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও গভীরভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পাঠ্যপুস্তকে যদি 'দুর্নীতি' নিয়ে আলোচনা করতেই হয়, তবে তা শুধুমাত্র একটি বিভাগের উপর সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ— নির্বাহী (Executive), বিচার বিভাগ (Judiciary) এবং আইনসভা (Legislature)— সবকটির প্রেক্ষিতেই সামগ্রিকভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊