Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ম্যাঙ্গালোরে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের, ফিরল নিথর দেহ

ম্যাঙ্গালোরে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের, ফিরল নিথর দেহ

Migrant worker death


মুর্শিদাবাদে ফের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এল পরিবারে। কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত নওদা গ্রামের এক যুবকের। শনিবার তাঁর মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার ও গ্রামবাসীরা।


পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অহেদুল শেখ (৩০)। তিনি প্রায় ৪৫ দিন আগে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজে বাঁশের ভাড়া তৈরির সময় দুর্ঘটনা ঘটে। কাজ করার সময় উপর থেকে নিচে পড়ে যান তিনি বলে জানাযায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই ঘটনার খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার। দুইটি ছোট সন্তান রেখে চলে গেলেন অহেদুল। এক মুহূর্তে পরিবারের মাথার উপর থেকে সরে গেল একমাত্র রোজগেরে মানুষটি। শনিবার তাঁর দেহ গ্রামে ফিরতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে গোটা এলাকা।


নিহত শ্রমিকের আত্মীয় দিলদার শেখ জানান, “বুধবার কাজ চলাকালীন দ্বিতীয় তলা থেকে পড়ে যায় অহেদুল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওর দুটি ছোট বাচ্চা আছে। এখন পরিবার পুরো অসহায় হয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি—এই পরিবারকে বাঁচান, পাশে থাকুন। এখন তাদের আর কেউ নেই।”


অহেদুলের মৃত্যুতে পরিবার যে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে, তা চোখে জল এনে দিচ্ছে প্রতিবেশীদেরও। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। এখন স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।ঘটনার খবর পেয়ে শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র হাসানুজ্জামান। তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানান এবং সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার দাবি তোলেন।


হাসানুজ্জামান বলেন, “অহেদুল শেখ কাজের জন্য প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার দূরে ম্যাঙ্গালোরে গিয়েছিলেন। সেখানে কাজ করতে গিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, এই পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও চাকরির ব্যবস্থা করা হোক।”


তিনি আরও বলেন, “মুর্শিদাবাদে যদি বড় শিল্প স্থাপন হত, তাহলে এখানকার শ্রমিকদের এত দূরে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ যেত না। আমরা বারবার আম ও লিচুকে কেন্দ্র করে কৃষি শিল্প গড়ার দাবি জানিয়েছি। সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় জায়গা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন না। এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।”


পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর এই ঘটনায় ফের একবার উঠে এল মুর্শিদাবাদে কর্মসংস্থানের অভাবের করুণ বাস্তবচিত্র। জীবিকার তাগিদে ভিনরাজ্যে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন একের পর এক শ্রমিক—আর পিছনে পড়ে থাকছে অসহায় পরিবার, অনাথ শিশু ও কান্নাভেজা ভবিষ্যৎ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code