রক্তাক্ত ইসলামাবাদ: জুম্মার দিনে শিয়া মসজিদের সামনে আত্মঘাতী হামলায় নিহত অন্তত ২৪, আহত ৮০-র বেশি
ইসলামাবাদ: ফের রক্তে ভাসল পাকিস্তানের মাটি (Islamabad explosion)। জুম্মার পবিত্র দিনে প্রার্থনার সময় আত্মঘাতী বোমারুর হামলায় কেঁপে উঠল ইসলামাবাদ। শুক্রবার দুপুরে ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার তরলাই ইমামবারগা মসজিদের সামনে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Islamabad explosion) অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুম্মার নামাজের সময় মসজিদে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেই ভিড়কেই লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। এক আত্মঘাতী বোমারু শরীরে বিস্ফোরক বেঁধে মসজিদের মূল ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু মসজিদের প্রবেশপথেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটকে দেন। বাধা পেয়ে গেটের সামনেই নিজেকে উড়িয়ে দেয় (Islamabad explosion) ওই জঙ্গি।
নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতায় হামলাকারী মসজিদের ভেতরে ঢুকতে না পারলেও, গেটের সামনে বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে (Islamabad explosion) পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মসজিদের গেট ও সংলগ্ন বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মানুষের ছিন্নভিন্ন দেহ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
বিস্ফোরণের (Islamabad explosion) খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। ইসলামাবাদের আইজি (IG) শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স’ (PIMS) এবং পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ আহতদের অনেকের শরীর আগুনে ঝলসে গেছে এবং অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন।
ইসলামাবাদ পুলিশের মুখপাত্র তাকি জাওয়াদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে একে আত্মঘাতী হামলা (Islamabad explosion) বলেই মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে।” পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
এই হামলা (Islamabad explosion) পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর চলা ধারাবাহিক আক্রমণেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় শিয়া মসজিদ ও জনসমাগম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরেও ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে এক আত্মঘাতী হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। জুম্মার দিনের এই হামলা আবারও প্রমাণ করল যে, পাকিস্তানের রাজধানীতেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊