Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

কোচবিহারে ফেনসিডিল সহ বিজেপি নেতা গ্রেপ্তার-রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

কোচবিহারে ফেনসিডিল সহ বিজেপি নেতা গ্রেপ্তার-রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

BJP leader Sukumar Barman arrested with banned drug Phensedyl in Cooch Behar, sparking a political clash between TMC and BJP


নিষিদ্ধ মাদক ফেনসিডিল সহ বিজেপির এক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনীতি বর্তমানে সরগরম হয়ে উঠেছে। সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ শিব প্রসাদ মুস্তাফি এলাকা থেকে বিজেপি নেতা সুকুমার বর্মনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও কথার লড়াই শুরু হয়েছে।

ধৃত বিজেপি নেতা সুকুমার বর্মন তাঁর এই গ্রেপ্তারিকে সম্পূর্ণ 'রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার নির্দেশেই পুলিশ 'দলদাস'-এর মতো কাজ করে তাঁকে এই মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছে।

একই সুর শোনা গেছে কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয়েও। জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ বর্মন সংবাদমাধ্যমের সামনে এই গ্রেপ্তারিকে 'মিথ্যা মামলা' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং তিনিও দাবি করেছেন যে এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার সরাসরি হাত রয়েছে।

বিজেপির তরফ থেকে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে সিতাই বা কোচবিহারে নেই, বরং দলীয় কর্মসূচিতে কলকাতায় অবস্থান করছেন, তাই এই ঘটনার সাথে তাঁর বা তাঁর দলের কোনো সম্পর্ক নেই ।

সাংসদ বসুনিয়া ধৃত বিজেপি নেতা সুকুমার বর্মনের বিরুদ্ধে পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন, তিনি ধৃত নেতাকে 'আদ্যোপান্ত একজন মাতাল' বলে কটাক্ষ করেন এবং জানান যে সে সারাদিন মদ্যপ অবস্থায় থাকে।

তিনি আরও দাবি করেন, সুকুমার বর্মন নিজের বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন করে। এমনকি তার বাবা-মা সাংসদের কাছেও একবার বিচার চাইতে এসেছিলেন, কিন্তু ছেলে বিজেপি করে বলে সাংসদ তখন বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সাংসদ বসুনিয়া বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন যে, বিজেপিতে এমন অনেকেই আছেন যারা ফেন্সিডিল, গাঁজা বা অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচারের মতো বেআইনি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তিনি দাবি করেন যে, পুলিশ কেবল আইন অনুযায়ী নিজেদের কাজ করছে। তৃণমূল কংগ্রেস যে মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেয় না, তার প্রমাণ দিতে গিয়ে তিনি জানান— অতীতে তৃণমূলের গীতালদহ-১ অঞ্চলের চেয়ারম্যান মাহফুজ রহমানও মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং দল কখনোই তার পাশে দাঁড়ায়নি। অথচ বিজেপি তাদের মাদক পাচারকারী নেতাদের প্রকাশ্য সমর্থন করে প্রমাণ করছে যে তারা দলের কর্মীদের এই ধরণের বেআইনি কাজে যুক্ত হওয়াকে প্রশ্রয় দেয়।

সব মিলিয়ে, একটি মাদক মামলাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট উত্তপ্ত। একদিকে বিজেপি যেমন পুলিশের ভূমিকা ও তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও মাদক ইস্যুতে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে তাদের অস্বস্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইউটিউব ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন- 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code