ভোটের আগে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রেশন কর্মচারীদের! প্রতিশ্রুত বেতনের দাবিতে গণবণ্টন ব্যবস্থা স্তব্ধ করার হুঁশিয়ারি
কোচবিহার: ভোটের আগে নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন সমর্থিত কোচবিহার জেলা তৃণমূল রেশন দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা। এদিন মাথাভাঙ্গা মহকুমা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সরকারের দ্বিচারিতা ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।
সংগঠনের সেক্রেটারি আওলাদ হোসেন সরকার অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং রেশন ডিলারদের অবহেলায় রেশন কর্মচারীদের জীবন আজ চরম সঙ্কটে। তিনি জানান, ২০২১ সালের ১৬ই নভেম্বর ঘোষণা করা হয়েছিল যে 'দুয়ারে রেশন' প্রকল্পে প্রতি রেশন দোকানে নিযুক্ত দুজন কর্মচারীকে দুয়ারে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ১০ হাজার টাকা এবং রেশন ডিলারদের পক্ষ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাপস মহন্ত স্পষ্ট করে জানান, নিয়ম অনুযায়ী সরকার থেকে ৫ হাজার এবং ডিলারদের থেকে ৫ হাজার মিলিয়ে এক একজন কর্মচারীর ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বেতন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে কর্মচারীরা মাত্র ২,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দিয়ে বর্তমানের দুর্মূল্যের বাজারে পরিবার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাপস মহন্ত আরও জানান যে, এই চরম বঞ্চনা সত্ত্বেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের 'খাদ্যসাথী' সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন স্বপ্নের প্রকল্পগুলিতে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। এমনকী বাড়ি বাড়ি জগন্নাথ দেবের প্রসাদ বিতরণ থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের 'উন্নয়নের পাঁচালী' গ্রাহকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কাজও তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করে চলেছেন।
নিজেদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দরবার করেছেন এই কর্মীরা। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁরা রাজ্য লেবার কমিশনে ন্যায্য মজুরির আবেদন জানান, কিন্তু তার শুনানি চললেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। এর পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৫ জুন খাদ্য ভবনের সেক্রেটারির কাছে, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ কলকাতার খাদ্য ভবনে এবং ২০২৫-এর এপ্রিলে নবান্ন সহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন। কোচবিহারের ডিএম ও ডিসি অফিস থেকে শুরু করে শ্রম কমিশনারের দপ্তর— সর্বত্র নিজেদের দাবি জানালেও কোনো সুফল মেলেনি, যার ফলে এই পরিস্থিতিকে তাঁরা 'জীবন বিভীষিকা ও মরণ যন্ত্রণা' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই লাগাতার বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে কোচবিহার জেলা তৃণমূল রেশন দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের তরফ থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলার রেশন কর্মীদের একজোট হয়ে একটি শক্তিশালী রাজ্যব্যাপী সংগঠন তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকার যদি অবিলম্বে তাঁদের ঘোষণা করা পারিশ্রমিক ও অন্তত ডাল-ভাত খাওয়ার মতো ন্যূনতম ব্যবস্থা না করে দেয়, তবে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন। প্রয়োজন হলে রাজ্যের গণবণ্টন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊