নির্বাচনের আগেই ‘হিটলিস্ট’! কোচবিহারে প্রতি বুথে তৃণমূলের ‘দুষ্কৃতী’ তালিকা তৈরি করছে বিজেপি, পাল্টা ‘ওষুধ’ চাইল শাসকদল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে এখনও বাকি, কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপে ফুটছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম স্পর্শকাতর জেলা কোচবিহার। আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এবার ‘অপারেশন ক্লিন’-এর পথে হাঁটল বিজেপি। জেলাকে ‘সন্ত্রাস কবলিত’ আখ্যা দিয়ে প্রতিটি বুথ থেকে বেছে বেছে তৃণমূল আশ্রিত কথিত দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরি করার কাজ শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির এই কৌশলকে অবশ্য ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিজেপির ‘ব্লু-প্রিন্ট’: বুথ পিছু ৫ থেকে ২০ জন
কোচবিহারের দিনহাটা ও সিতাইয়ের মতো এলাকাগুলিকে বরাবরই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ‘হটস্পট’ বলে গণ্য করা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই এলাকাগুলোতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে তারা।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দলের অভ্যন্তরীণ সার্ভের মাধ্যমে প্রতিটি বুথ থেকে ৫ থেকে ২০ জন করে এমন ব্যক্তির নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে, যারা সরাসরি তৃণমূলের হয়ে সন্ত্রাসে যুক্ত। তিনি বলেন, “নির্বাচন ঘোষণা হলেই দিনহাটা, সিতাইয়ের মতো অতি সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় বিজেপি কী জিনিস, তা তৃণমূল টের পাবে। শাসকদলের কারা এই সমস্ত কাজ করছে, তার তালিকা অতি সন্তর্পণে তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচন ঘোষণা হলেই ওই দুষ্কৃতীরা জেলের ভেতরে থাকবে, প্রয়োজনে পুলিশ দিয়েই তাদের গৃহবন্দি করে রাখা হবে।”
পুলিশও নজরে: ‘অতি সক্রিয়’ আধিকারিকদের তালিকা
শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, পুলিশের উর্দির আড়ালে যারা তৃণমূলের হয়ে দালালি করছে, সেই সমস্ত আধিকারিক ও কর্মীদেরও একটি আলাদা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সঞ্জয়বাবুর হুঁশিয়ারি, নির্বাচন কমিশন সক্রিয় হওয়ার পর এই সমস্ত পুলিশ কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভোট প্রক্রিয়ায় তাঁরা প্রভাব খাটাতে না পারেন।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: ‘ভয় পেয়েছি, ওষুধ চাই’
বিজেপির এই তোড়জোড়কে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ কোচবিহার জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। পুরো বিষয়টিকে তারা ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির এই তালিকার খবর শুনে জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের প্রতিক্রিয়া ছিল কৌতুকমিশ্রিত। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “এটা জানতে পেরে আমরা তো খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছি! এখন ভয় সারানোর কোনও ওষুধ আছে কি না, সেটা চাইতে আমরা দলবেঁধে বিজেপি পার্টি অফিসে গিয়ে হাজির হব।” তৃণমূলের দাবি, জনসমর্থন হারিয়ে বিজেপি এখন ভয় দেখানোর রাজনীতি করার চেষ্টা করছে, যা মানুষ মেনে নেবে না।
বিগত পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা—প্রতিটি নির্বাচনেই কোচবিহারে গুলি, বোমা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শীতলকুচির গুলি চালানোর ঘটনা হোক বা দিনহাটার রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বারবার শিরোনামে এসেছে এই জেলা। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ ভোটারদের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি চাইছে নির্বাচনের আগেই এলাকা ‘দখলমুক্ত’ করতে, অন্যদিকে তৃণমূল চাইছে তাদের গড় অটুট রাখতে। সব মিলিয়ে, তালিকা তৈরির এই রাজনীতি কোচবিহারের মাটি ফের উত্তপ্ত করে তুলছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊