পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ফের পেছাতে পারে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ !
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ার (Special Intensive Revision বা SIR) সময়সীমা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কিছু নির্দেশিকা পালন করতে গিয়ে পূর্বনির্ধারিত ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (West Bengal Voter List 2026) প্রকাশ করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে ফের একবার পিছিয়ে যেতে পারে রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, গত ১৬ ডিসেম্বর ভোটার তালিকার (West Bengal Voter List 2026) খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর দাবি ও আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়া চলে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। কমিশন জানিয়েছিল, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই লক্ষ্যেই ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত শুনানি বা 'হেয়ারিং' শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটি ও 'লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি' (Logical Discrepancy)-র অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের অভিযোগ ছিল, কমিশন তড়িঘড়ি কাজ সারতে গিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না। সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কমিশনের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনে আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে। আদালতের প্রধান নির্দেশগুলি হলো:
১. শুনানির জন্য যাদের ডাকা হচ্ছে, সেই ভোটারদের তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এবং পঞ্চায়েত এলাকায় প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিতে হবে।
২. ভোটাররা যখন নিজেদের তথ্য বা নথিপত্র জমা দেবেন, তখন তাঁদের অবশ্যই 'রিসিভ কপি' বা প্রাপ্তিস্বীকার পত্র দিতে হবে।
৩. ভোটার তালিকার লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সিগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখতে হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, আদালতের এই নির্দেশগুলি যথাযথভাবে পালন করতে হলে বর্তমান পরিকাঠামোয় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রতিটি স্তরে তালিকা টাঙানো এবং রিসিভ কপি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। তাই ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে আসছিল যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হোক। এই মর্মে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু প্রাথমিকভাবে কমিশন সেই দাবিতে কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কমিশন বাধ্য হয়েই সময়সীমা বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে সময়সীমা পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিতে পারে।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊