মোদীর সমালোচনা করে বিপাকে ব্রিটিশ নাগরিক! মুম্বই বিমানবন্দরে ১৫ ঘণ্টা আটক !
মুম্বই: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবমূর্তি ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আইনি জটে জড়ালেন এক অনাবাসী ভারতীয় তথা ব্রিটিশ নাগরিক। ডঃ সংগ্রাম পাতিল নামে ওই চিকিৎসককে মুম্বই বিমানবন্দরে প্রায় ১৫ ঘণ্টা আটক করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তাঁর বাকস্বাধীনতা (Free Speech) ক্ষুণ্ণ হয়েছে, কারণ তিনি কেবল গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
মূলত মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ের বাসিন্দা হলেও ডঃ সংগ্রাম পাতিল বর্তমানে ব্রিটেনের নাগরিক। গত ১০ জানুয়ারি, শনিবার রাতে তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পৌঁছাতেই তাঁকে আটকানো হয়। ডঃ পাতিল জানান, তিনি জানতেনই না যে তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে এবং জারি করা হয়েছে ‘লুকআউট সার্কুলার’ (LOC)।
বিমানবন্দরে তাঁকে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা আটকে রাখার পর লোয়ার পারেল ক্রাইম ব্রাঞ্চের (ইউনিট ৩) হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আরও ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা আটকের পর তাঁকে নোটিস দিয়ে ছাড়া হয়।
ডঃ পাতিলের দাবি, গত ১৪ ডিসেম্বর তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি মোদী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, "আমি সরকারের বিরুদ্ধে নই, আমি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের প্রশ্ন করেছিলাম। যদি বিশ্বজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সংশয় তৈরি হয়, তবে তার স্পষ্টীকরণ আসা উচিত, যা দেশের জন্যই মঙ্গলজনক।"
তবে ১৮ ডিসেম্বর তাঁর অজান্তেই এক মোদী সমর্থক তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের দাবি, ওই পোস্টে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানোর উপাদান ছিল, যদিও ডাক্তার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ডাক্তার পাতিল নিজেকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন এবং মনমোহন সিং সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি কোভিডের সময়েও তিনি ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর যুক্তি, "কঠিন প্রশ্ন করা—তা যতই রূঢ় ভাষায় হোক—আমার অধিকার। ভারত ও ব্রিটেন দুই দেশই গণতান্ত্রিক। যদি প্রতিটি সমালোচকের বিরুদ্ধেই এফআইআর করা হয়, তবে বাকস্বাধীনতার কী হবে?"
এই ঘটনায় চরম হয়রানির শিকার হয়েছে ডঃ পাতিলের পরিবার। তাঁর স্ত্রী নাগপুরের সংযোগকারী বিমান মিস করেন এবং জলগাঁওয়ে থাকা তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ বোধ করায় ডাক্তারকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশন ডঃ পাতিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়েছে এবং আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার সাপোর্টের আশ্বাস দিয়েছে। মামলাটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ডাক্তারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মুম্বই পুলিশের ডিসিপি (ক্রাইম) রাজিলক রৌশন জানিয়েছেন, ডঃ পাতিলকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৩৫(৩) ধারায় নোটিস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিশিষ্ট আইনজীবী মজিদ মেমন মন্তব্য করেছেন, "গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়। তবে এফআইআর-এ ঠিক কী ভাষা বা বিষয় উল্লেখ আছে, তা না দেখে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।"

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊