ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার রুখতে ফলের রস ও মদের ওপর কর বাড়ানোর সুপারিশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
জেনেভা: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবার কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ফলের রস (Fruit Juices), চিনিযুক্ত পানীয় এবং অ্যালকোহলের ওপর করের বোঝা আরও বাড়াতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের দুটি নতুন প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই ধরণের ক্ষতিকারক পানীয়গুলোর ওপর করের হার অত্যন্ত কম। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির বাজারেও এই পণ্যগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। সস্তা হওয়ার কারণে শিশু এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এগুলোর আসক্তি বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যের ওপর।
WHO-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে সোডা বা কার্বনেটেড পানীয়ের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, ‘১০০ শতাংশ ফলের রস’, মিষ্টি দেওয়া দুধ, এবং রেডি-টু-ড্রিংক কফি বা চায়ের মতো পণ্যগুলি অনেক ক্ষেত্রেই এই করের আওতার বাইরে। যেখানে কর আছে, সেখানেও তা পণ্যের দামের মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। এর ফলে এই পণ্যগুলো সহজেই মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
অ্যালকোহলের ক্ষেত্রেও চিত্রটা হতাশাজনক। রিপোর্ট বলছে, ২০২২ সাল থেকে বেশিরভাগ দেশে মদের দাম হয় কমেছে অথবা একই আছে। ১৬৭টি দেশে অ্যালকোহলের ওপর কর থাকলেও, বিয়ারের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্কের গড় হার মাত্র ১৪ শতাংশ এবং স্পিরিটের ক্ষেত্রে ২২.৫ শতাংশ।
WHO-এর ‘হেলথ ডিটারমিন্যান্টস’ বিভাগের ডিরেক্টর ড. ইতিয়েন ক্রুগ (Dr. Etienne Krug) বলেন, "সস্তা অ্যালকোহল সমাজে সহিংসতা, আঘাত এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শিল্পপতিরা মুনাফা লুটছে, আর সাধারণ মানুষ ও সমাজকে এর চড়া মাশুল গুনতে হচ্ছে।"
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল ড. টেড্রস আধানম ঘেব্রেইসাস (Dr. Tedros Adhanom Ghebreyesus) বলেন, "স্বাস্থ্যকর সমাজ গড়তে এবং রোগ প্রতিরোধে ‘হেলথ ট্যাক্স’ বা স্বাস্থ্য কর হলো আমাদের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। তামাক, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অ্যালকোহলের ওপর কর বাড়িয়ে সরকার ক্ষতিকারক পণ্যের ব্যবহার কমাতে পারে এবং সেই অর্থ স্বাস্থ্য পরিষেবায় কাজে লাগাতে পারে।"
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমস্ত দেশের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যেন ২০৩৫ সালের মধ্যে তামাক, অ্যালকোহল এবং চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর করের কাঠামো নতুন করে সাজানো হয়। তাদের লক্ষ্য, এই পণ্যগুলির দাম বাড়িয়ে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া, যাতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊