বিবাহবার্ষিকীতেই ডিভোর্স নোটিস! সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন সেলিনা জেটলি
মুম্বই: গ্ল্যামার দুনিয়ার আলো থেকে দূরে, বাস্তব জীবনে এক কঠিন যুদ্ধের মুখোমুখি বলিউড অভিনেত্রী এবং প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া সেলিনা জেটলি। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইতি টেনে স্বামী পিটার হাগ তাঁকে ডিভোর্স নোটিস পাঠিয়েছেন। তবে এখানেই শেষ নয়, আদালতের নির্দেশ এবং যৌথ অভিভাবকত্ব (Joint Custody) থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
সেলিনা জেটলি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্টে তাঁর জীবনের এই মর্মান্তিক অধ্যায় তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বরে তাঁদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর দিন স্বামী পিটার হাগ তাঁকে একটি উপহার সংগ্রহের নাম করে স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে উপহারের বদলে তাঁর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ডিভোর্সের নোটিস। এই ঘটনাকে তিনি চরম বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সেলিনা জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়ায় তিনি দীর্ঘকাল ধরে পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টার সময় তিনি প্রতিবেশীদের সহায়তায় অস্ট্রিয়া ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। তিনি লেখেন, "সেদিন আমি আমার মর্যাদা, আমার সন্তান এবং ভাইকে বাঁচাতে অস্ট্রিয়া ত্যাগ করেছিলাম। ব্যাংকে নামমাত্র টাকা সম্বল করে আমাকে ভারতে ফিরতে হয়েছে।"
অস্ট্রিয়ান হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগের সঙ্গে বিয়ের পর সেলিনা তিন পুত্র সন্তানের মা হন (প্রথমে যমজ এবং পরে আরও এক সন্তান)। বর্তমানে অস্ট্রিয়ার আদালতের নির্দেশে জয়েন্ট কাস্টডি থাকা সত্ত্বেও সেলিনাকে তাঁর বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিনেত্রীর অভিযোগ, বাচ্চাদের মনে মায়ের বিরুদ্ধে বিষ ঢোকানো হচ্ছে এবং তাদের 'ব্রেনওয়াশ' করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "যে মা তাদের জন্মলগ্নে ক্যারিয়ার ছেড়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরেছেন, আজ সেই মায়ের বিরুদ্ধেই বাচ্চাদের কথা বলতে বাধ্য করা হচ্ছে।"
সেলিনার অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। তিনি জানান, অস্ট্রিয়ায় থাকাকালীন সন্তানের কাস্টডি বজায় রাখার জন্য পিটার তাঁকে সেখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী (Cleaner) বা সুপারমার্কেটে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা তাঁর পেশাগত যোগ্যতার অপমান। এছাড়াও, ২০০৪ সালে বিয়ের বহু আগে ভারতে সেলিনার নিজের উপার্জিত অর্থে কেনা বাড়িটিও এখন পিটার নিজের বলে দাবি করছেন। নিজের বাড়িতে ঢুকতেই সেলিনাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হয়েছে।
একসময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বর্তমানে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও নিজের অধিকার এবং সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊