'রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে'- তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ বিজেপি বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে-র
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ইস্তফা নিয়ে এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিঁধলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নিজে থেকে পদত্যাগ করেননি, বরং তাঁকে 'বিতাড়িত' করা হয়েছে। তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬-এর নির্বাচনে শাসকদলকে বড় মাসুল গুনতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নিখিল রঞ্জন দে বলেন যে, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও একজন অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ বাবুর অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। বিধায়কের মতে, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দলকে মাঠে-ময়দানে লড়াই করে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। এমনকি একসময় দল পরিচালনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি অর্থ সাহায্যও পাঠাতেন বলে দাবি করেন নিখিল বাবু।
বিজেপি বিধায়কের ভাষায়, "পুরনো লোক যারা দলের সম্পদ, যারা দলকে সৃষ্টি করেছে, এমন লোককে যদি দল একেবারে বিতাড়িত করে দেয়, তবে তাতে দলের কোনো লাভ হবে না"।
নিখিল রঞ্জন দে মনে করেন, যদি রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে বড় কোনো পদে নিয়ে যাওয়া না হয়, তবে এই অপমানজনক বিদায় তৃণমূলের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনবে। তিনি স্পষ্ট জানান যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসকে এই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে হবে।
তৃণমূলের অন্দরে যখন একে 'সাংগঠনিক রদবদল' বা 'দলের নির্দেশ' বলে চালানো হচ্ছে , তখন বিরোধীরা বিষয়টিকে 'হেভিওয়েট নেতাকে কোণঠাসা করা' হিসেবেই দেখছে। নিখিল রঞ্জন দে-র এই মন্তব্য কোচবিহারের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে তৃণমূল যখন নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার কথা ভাবছে, তখন পুরনো নেতাদের গুরুত্ব কমে যাওয়া নিয়ে বিজেপির এই শ্লেষপূর্ণ মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ শেষ পর্যন্ত এই বিষয়ে নিজে কী বলেন এবং দল তাঁকে নতুন কোনো দায়িত্ব দেয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। তবে বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্য কোচবিহারের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।
তথ্যসূত্র ভিডিও:
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊