মেয়েকে নিয়ে উধাও বধূ! ফেসবুকে প্রেম নাকি অন্য কিছু! দানা বাঁধছে রহস্য
মালবাজার: মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে সামান্য বচসা। আর তার জেরেই কি চরম সিদ্ধান্ত নিলেন স্ত্রী? বাজার যাওয়ার নাম করে শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরলেন না ওদলাবাড়ির এক গৃহবধূ। তিনদিন পেরিয়ে গেলেও মা ও মেয়ের কোনও খোঁজ না মেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি শান্তি কলোনির আইটিআই কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। নিখোঁজ বধূ রেখা সরকারের স্বামী সদাই সরকার ও গোটা পরিবার এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে রবিবার সকালে। প্রতিদিনের মতোই সকালে উঠে বাজার যাওয়ার প্রস্তুতি নেন রেখা সরকার। তাঁর কোলে ছিল ছোট মেয়ে। বাড়িতে ছেলেকে রেখে যাওয়ার সময় তার হাতে ১০০ টাকা দিয়ে রেখা বলেছিলেন, “আমি একটু পরেই ফিরে আসব।” কিন্তু সেই ‘একটু পরে’ আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা, এবং তারপর রাত নেমে এলেও মা ও মেয়ে ঘরে না ফেরায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের।
স্বামী সদাই সরকার পেশায় দিনমজুর। সকালে তিনি কাজে বেরিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও কন্যাকে দেখতে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। প্রথমে স্ত্রীর মোবাইলে রিং হলেও, কিছুক্ষণ পরেই তা সুইচড অফ হয়ে যায়।
কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামী সদাই সরকার বলেন, “কোনওদিন ভাবিনি এটাই ওদের সঙ্গে শেষ দেখা হবে। ও যদি কোথাও থাকে, শুধু একবার ফোন করুক। আমি নিজে গিয়ে ওদের ফিরিয়ে আনব।”
পরিবারের দাবি, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সেই অভিমান থেকেই এই পদক্ষেপ কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, নিখোঁজ বধূর ননদ দীপা সরকার এক নতুন তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন রাতে তিনি লক্ষ্য করেন যে রেখা সরকারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অনলাইন ছিল। কিন্তু মেসেজ পাঠানো হলেও ওপাশ থেকে কোনও উত্তর মেলেনি।
এই তথ্য সামনে আসায় তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। তবে কি সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ওই বধূ? নাকি এই উধাও কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মা ও মেয়ের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊