আক্রান্ত দুই নার্স ‘কোমায়’, সংস্পর্শে আসা ৬৫ জনকে জরুরি আইসোলেশনের নির্দেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত: ফের রাজ্যে নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) হানা? বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই নার্সিং স্টাফের শরীরে এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের খবর মিলতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আক্রান্ত দুই স্বাস্থ্যকর্মী—একজন তরুণী (সিস্টার) এবং একজন যুবক—বর্তমানে ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুজনেই গভীর কোমায় (Coma) চলে গিয়েছেন। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ৬৫ জনকে চিহ্নিত করে আইসোলেশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, আক্রান্ত দুই নার্সের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। তাঁদের ‘গ্লাসগো কোমা স্কেল’ (Glasgow Coma Scale) অনুযায়ী চোখ খোলা, মৌখিক প্রতিক্রিয়া এবং মোটর রেসপন্স—এই তিনটি সূচকই ৫-এর নিচে নেমে গিয়েছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি’ (NIV) থেকে আসা রিপোর্টে তরুণী নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্রাদার নার্সের রিপোর্ট এখনও হাতে না এলেও, তাঁর উপসর্গ দেখে চিকিৎসকরা নিশ্চিত যে তিনিও নিপা পজিটিভ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জ্বরে আক্রান্ত অবস্থাতেই এই দুই নার্স বেশ কিছুদিন ডিউটি করেছিলেন এবং জনসমক্ষে গিয়েছিলেন। ‘কনট্যাক্ট ট্রেসিং’ (Contact Tracing) করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ স্বাস্থ্যকর্তাদের।
১. বাসস্থান: আক্রান্তরা বারাসতের হৃদয়পুরে একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। তাঁদের রুমমেটদের (ব্রাদার নার্সের সঙ্গে ২ জন ও সিস্টারের সঙ্গে ১ জন) ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
২. পরীক্ষা কেন্দ্র: অসুস্থ অবস্থাতেই পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা ওই সিস্টার গুসকরায় একটি নার্সিং পরীক্ষায় বসেছিলেন। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ব্রাদার নার্স নিউটাউনে টিসিএস (TCS)-এর সেন্টারে একটি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন।
৩. যাতায়াত: তরুণী নার্স অসুস্থ হওয়ার পর কাটোয়া হাসপাতাল ও পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে বারাসতে আনা হয়। ওই অ্যাম্বুল্যান্সের চালক এবং তাঁকে চিকিৎসা করা চিকিৎসকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ জনের লালারসের নমুনা ইতিমধ্যেই পরীক্ষার জন্য কল্যাণী এইমস-এ (AIIMS Kalyani) পাঠানো হয়েছে।
বারাসত রথতলা সংলগ্ন ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, “আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি হচ্ছে, সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে সতর্ক করা হয়েছে। অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোম (AES) বা তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা (SARS) নিয়ে কেউ এলে তাঁদের ভ্রমণের ইতিহাস এবং কাদের সংস্পর্শে এসেছেন, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।”
আপাতত দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে ভেন্টিলেশনে রেখেই আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে নিপা ভাইরাসের মারণ ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে বারাসত ও সংলগ্ন এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊