মৌনী অমাবস্যার মাহাত্ম্যে পুণ্যলাভ, স্নান ও মৌনব্রত
-ড.শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সনাতন ধর্মের (Hindu Rituals) তিথি-নক্ষত্র নির্ভর আচার-অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে মৌনী অমাবস্যা (Mauni Amavasya) অন্যতম। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে উদযাপিত এই তিথি স্নান, দান, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে নিবেদিত বিভিন্ন ক্রিয়ার জন্য বিশিষ্ট।
প্রচলিত বিশ্বাস - ঋষি মনু এই তিথিতে জন্মেছিলেন। বলা হয় এই সূত্রেই এই তিথি - মৌনী অমাবস্যা (Mauni Amavasya)। আবার অনেকে বলেন - এই তিথিতে মৌন থাকার বিধি আছে। সেই কারণেই এই তিথির নাম মৌনী অমাবস্যা। এই তিথির সঙ্গে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টিরও সংযোগ আছে বলে মনে করা হয়। তাই এই তিথিতে কোনও কাজ শুরু করা অত্যন্ত শুভ বলেও মনে করা হয়।
মৌনী অমাবস্যা মাঘী অমাবস্যাও (Maghi Amavasya) নামেও পরিচিত। বলা হয় - এই অমাবস্যাতে জপ, ধ্যান বিশেষ ফলপ্রদ। এই অমাবস্যাতে ভগবান বিষ্ণুকে স্মরণ করে উপবাসের ব্রত রাখার ও তুলসী প্রদক্ষিণের রেওয়াজ আছে।
মৌনী অমাবস্যায় (Mauni Amavasya) গঙ্গা, যমুনা, সরযূ, নর্মদাসহ অন্যান্য পবিত্র নদীতে স্নান করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ বলে বিবেচিত হয়। এই অমাবস্যাতে ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান করে সূর্যার্ঘ্য নিবেদন, তর্পণ, পিণ্ড দান এবং শ্রাদ্ধ আয়োজনও বহুল প্রচলিত। প্রচলিত ধারণা - মৃত্যুর তিথি অজানা থাকলে এই মৌনী অমাবস্যায় পিণ্ডদান করা যায় এবং এর প্রভাবে যাঁর উদ্দেশে পিণ্ডদান করা হয় তিনি মোক্ষ লাভ করেন। লোক বিশ্বাস - এই তিথিতে দান করলে শত যজ্ঞের ফল লাভ হয়। অনেকে আবার বলেন, এই দিনে বিধি মেনে স্নান এবং দান করলে মোক্ষও লাভ হয়।
এই অমাবস্যার (Mauni Amavasya) সাথে যোগ সাধনার যেমন সম্পর্ক আছে তেমনই তন্ত্রসাধনারও সম্পর্ক আছে। যদিও এক্ষেত্রে রটন্তী চতুর্দশী আলাদা গুরুত্ব পায়। তবু অনেক সাধক গুপ্ত সাধনার জন্য এই মৌনী অমাবস্যাকে অত্যন্ত সিদ্ধিপ্রদ বলে মনে করেন।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ