SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়ে তিন পাতার এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন, অভিযোগগুলির সমাধান না হলে তার ফলে “অপূরণীয় ক্ষতি” হতে পারে এবং বহু বৈধ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
এর আগেও ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর একই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার তৃতীয়বার এই প্রসঙ্গে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তিনি। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। উদাহরণ হিসেবে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিহারে বংশতালিকা (ফ্যামিলি রেজিস্টার) বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা মানা হচ্ছে না। এমনকি বংশতালিকাকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা জারি না করে কমিশন হোয়াট্সঅ্যাপের মতো মাধ্যমে প্রতিদিন নতুন নতুন নির্দেশ দিচ্ছে, যার ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশ একে অপরের সঙ্গে পরস্পরবিরোধী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও)-দের অনুমতি ছাড়াই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ইআরও-র অজ্ঞাতে এই ধরনের পদক্ষেপ বেআইনি বলেও তিনি জানান। গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও অবৈধতা থাকলে তার দায় নির্বাচন কমিশনের উপরেই বর্তাবে বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়ায় ভোটারদের হেনস্থার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, যার ফলে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। নামের বানান ভুল বা বয়সের সামান্য ফারাকের মতো কারণে ভোটারদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, শুনানির সময় কোন নথি প্রয়োজন, সে বিষয়ে আগাম কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না এবং নথি জমা দেওয়ার পর কোনও রসিদ বা প্রমাণপত্রও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
শুনানিকেন্দ্রে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-দের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এনুমারেশন পর্বে বিএলএ-রা সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও শুনানির সময় তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটগ্রহণের সময় পোলিং এজেন্টরা স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই উপস্থিত থাকেন, সেক্ষেত্রে বিএলএ-দের বাদ দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে যুক্ত আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। এমনকি কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো-অবজার্ভারদেরও এই কাজের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই এবং তাঁরা রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনও সমন্বয় না রেখেই কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊