বাংলার জয়জয়কার! ১৭৫ জনকে হারিয়ে ‘জুনিয়র মিস ইন্ডিয়া’র মুকুট মাথায় তুললেন মালদহের প্রিন্সিপ্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদন, মালদহ: রাজস্থানের গোলাপি শহর জয়পুরে উড়ল বাংলার বিজয় নিশান। সর্বভারতীয় স্তরের কঠিন প্রতিযোগিতায় দেশের বাঘা বাঘা প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে ‘জুনিয়র মিস ইন্ডিয়া’ (Junior Miss India)-র খেতাব জিতে নিলেন মালদহের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রিন্সিপ্রিয়া ভৌমিক। বাংলার এই কিশোরীর সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার জেলাজুড়ে।
জয়পুরের জাঁকজমকপূর্ণ এই ফ্যাশন ইভেন্টে পৌঁছানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না। জানা গিয়েছে, এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রাথমিক পর্বে ভারতের ২৫টি রাজ্য থেকে কয়েক হাজার প্রতিযোগী অডিশন দিয়েছিলেন। সেখান থেকে কঠোর বাছাই পর্বের মাধ্যমে সেরা ১৭৫ জনকে বেছে নেওয়া হয় গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য। মালদহের প্রিন্সিপ্রিয়া সেই ১৭৫ জনের মধ্যে নিজের জায়গা পাকা করে নেন এবং ফাইনালে তিনটি অত্যন্ত কঠিন রাউন্ড পার করে বিচারকদের রায় নিজের পক্ষে আনেন।
শুধুমাত্র বাহ্যিক রূপ বা গ্ল্যামার নয়, এই মঞ্চে বিচার করা হয়েছে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিমত্তা। খেতাব জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী প্রিন্সিপ্রিয়া জানান, "এই মঞ্চে কেবল সৌন্দর্য দেখা হয়নি। ফ্যাশন সেন্সের পাশাপাশি আমাদের সাধারণ জ্ঞান, উপস্থিত বুদ্ধি, সামাজিক সচেতনতা এবং দেশপ্রেমের মতো বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।" প্রতিটি ধাপে প্রিন্সিপ্রিয়া প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল রূপসী নন, তিনি একজন সচেতন নাগরিকও।
প্রিন্সিপ্রিয়া মালদহের একটি নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তাঁর বাবা সুরজিৎ ভৌমিক পেশায় ব্যবসায়ী এবং মা পূর্ণিমা ভৌমিক গৃহবধূ। ছোটবেলা থেকেই মডেলিং এবং গ্ল্যামার জগতের প্রতি প্রিন্সিপ্রিয়ার আলাদা ঝোঁক ছিল। মা পূর্ণিমা দেবী দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায়, মেয়েকে তৈরি করতে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। মেয়ের গ্রুমিং থেকে শুরু করে মানসিক সমর্থন— সবটুকুই তিনি সামলেছেন। প্রিন্সিপ্রিয়া মনে করেন, পরিবারের এই অকুণ্ঠ সমর্থন আর বিশ্বাসই তাঁকে জাতীয় স্তরের মঞ্চে সেরার শিরোপা এনে দিয়েছে।
জাতীয় স্তরের এই খেতাব জয়ের পর স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত প্রিন্সিপ্রিয়া। তবে পা মাটিতেই রাখছেন তিনি। তাঁর ইচ্ছা, ভবিষ্যতে পড়াশোনা ঠিক রেখে মডেলিং জগতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান মালদহের এই ‘মিস ইন্ডিয়া’। Breaking: কাজের চাপে অতিষ্ঠ! গণইস্তফার ডাক দিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন ১৭ জন BLO
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। মালদহের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা প্রিন্সিপ্রিয়াকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বাংলার মফস্বল শহর থেকে উঠে এসে জাতীয় মঞ্চে এই সাফল্য নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ