কাজের চাপে অতিষ্ঠ! গণইস্তফার ডাক দিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন ১৭ জন BLO
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নির্বাচন কমিশনের কাজের ধরণ এবং লাগাতার অতিরিক্ত কাজের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে এবার চরম সিদ্ধান্ত নিলেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। বৃহস্পতিবার দুপুরে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গরালবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন অঞ্চলের ১৭ জন বিএলও। শুধু তাই নয়, কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে সমষ্টিগতভাবে পদত্যাগের (Mass Resignation) আবেদনও জানালেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারী বিএলও-দের অভিযোগ, গত নভেম্বর মাস থেকে তাঁরা বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনী (SSR) বা ভোটার তালিকা ভেরিফিকেশনের কাজ করছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ এবং সফটওয়্যারে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' (Logical Discrepancy)-র নামে প্রতিদিন নতুন নতুন ত্রুটি দেখানো হচ্ছে, যা কার্যত ভিত্তিহীন।
বিএলও-দের দাবি, গতকাল পর্যন্ত যাঁদের হেয়ারিং বা শুনানি সম্পন্ন হয়েছে, আজ ফের তাঁদের নাম নতুন তালিকায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গরালবাড়ি জিপির এক বিএলও আমজাদ আলি জানান, "আমরা শিক্ষকতা বা অন্য পেশার সাথে যুক্ত থেকে এই কাজ করছি। প্রথমে আমার বুথে ১৩৯ জনের নাম আসে, কাজ শেষ করার পর ধাপে ধাপে সংখ্যা বেড়ে আজ তা ৪৮২-তে দাঁড়িয়েছে। গোটা গরালবাড়িতে গতকাল ১৯০০ কেস ছিল, আজ সকালে তা বেড়ে ৩৫০০ হয়ে গেছে। এটা মানুষের পক্ষে করা অসম্ভব।"
বিএলও-রা আরও জানান, এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি এই ভুলে ভরা তথ্যের জন্য সাধারণ মানুষকেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নামের সামান্য বানান ভুল বা পরিবারের সদস্য সংখ্যার ভুল লিঙ্কিং-এর জন্য বারবার ভোটারদের নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে। অথচ কমিশনের আগের নির্দেশ ছিল, কোনো নথির প্রয়োজন নেই। এখন ফের নথি চাইতে গেলে গ্রামের মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বিএলও-দের।
এই অসংগতি এবং মানসিক চাপের প্রতিবাদেই এদিন ১৭ জন বিএলও একযোগে সুপারভাইজারের অফিসে তালা লাগিয়ে দেন এবং বিডিও (BDO) ও ইআরও (ERO)-র কাছে তাঁদের গণইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। তাঁদের সাফ কথা, কমিশনের এই খামখেয়ালিপনা বন্ধ না হলে এবং কাজের সঠিক নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত তাঁরা আর কাজ করবেন না।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊