রেললাইন উঠিয়ে দিলে কী হবে বামনহাট-আলিপুরদুয়ারের রেল পরিষেবার ! যানজট নিরসনে সাংসদ মনোজ টিজ্ঞার বড় প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদন, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সমাধানে এবার বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা। শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে নিউ কোচবিহারগামী রেললাইনটি শহরকে দ্বিখণ্ডিত করেছে এবং নিত্যদিন যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা নিরসনে সাংসদ প্রস্তাব দিয়েছেন যে, জনসমর্থন পেলে শহরের ভেতর থেকে এই রেললাইনটি সরিয়ে ঘুরপথে চালানোর ব্যবস্থা করা হবে।
আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে নিউ কোচবিহারের দিকে যাওয়া রেললাইনটি শহরের একদম মাঝখান দিয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দমনপুর থেকে শুরু করে ডিআরএম চৌপথি, লিচুতলা, বেলতলা, লেবুবাগান এবং বড়বাজার— শহরের মধ্যে প্রায় ৬টি রেলগেট রয়েছে। এই রেলগেটগুলো যখন তখন পড়ার ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবার অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ঘণ্টাখানেক সময় নষ্ট হয় এই লেভেল ক্রসিংগুলোতে।
সম্প্রতি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা জানান, শহরের মাঝখানের এই রেললাইন আলিপুরদুয়ারকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, শহরের ভেতরে এই লাইনের ওপর আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভার তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
তাই সাংসদের প্রস্তাব, "যদি আলিপুরদুয়ারবাসী আমাদের কনসেন্ট (সম্মতি) দেয়, তবে এই রুটটা চেঞ্জ করে আমরা অন্য রুট করতে চাই।" তিনি স্পষ্ট করেন যে ট্রেনটি কোচবিহারেই যাবে, কিন্তু শহরের বুক চিরে নয়, বরং শহরের বাইরে দিয়ে ঘুরপথে (সম্ভবত নিউ আলিপুরদুয়ার হয়ে) নতুন লাইন তৈরির মাধ্যমে এই সংযোগ স্থাপন করা হবে।
সাংসদ বারবার জোর দিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আলিপুরদুয়ারের মানুষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, "আলিপুরদুয়ারবাসীর কনসেন্ট ছাড়া হবে না।" এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নিতে খুব শীঘ্রই একটি 'নাগরিক কনভেনশন' ডাকা হবে।
সেখানে যদি সাধারণ মানুষ এবং বিশিষ্টজনেরা মনে করেন যে লাইনটি সরিয়ে নেওয়াই শহরের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয়, তবে সেই মর্মে গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি রেজোলিউশন রেল বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে।
লোকসভা নির্বাচনের আগে এবং সামনে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সাংসদের এই প্রস্তাব আলিপুরদুয়ারের রাজনীতি ও উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে আলিপুরদুয়ার শহর যানজট মুক্ত হবে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊