ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতন ও স্থায়ীকরণের দাবিতে উত্তাল জলপাইগুড়ি, জেলাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি আদায়ে এবার পথে নামলেন আশা কর্মীরা। ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন, কাজের স্থায়ীকরণ এবং সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে বুধবার জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দপ্তরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাল ‘পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন’। এদিন শহরের সমাজপাড়া মোড় থেকে একটি বিশাল ধিক্কার মিছিল শুরু হয়ে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী শত শত আশা কর্মীর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের উপদেষ্টা তথা ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্যকর্মী ইউনিয়নের সম্পাদিকা বাণী বসু। তিনি জানান, গত ২৩শে ডিসেম্বর থেকে তাদের লাগাতার কর্মবিরতি চলছে। প্রতি বুধবার তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ এই ডিএম ডেপুটেশন।
আশা কর্মীদের মূল দাবিগুলি হলো: ১. আশা কর্মীদের মাসিক ন্যূনতম বেতন ১৫,০০০ টাকা করতে হবে।
২. আশা কর্মীদের সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি ও স্থায়ীকরণ করতে হবে।
৩. কর্মরত অবস্থায় কোনো আশা কর্মীর মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করতে হবে।
৫. স্বাস্থ্য পরিষেবার বাইরে অন্য কোনো কাজ (যেমন নির্বাচনের ডিউটি বা মাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটি) আশা কর্মীদের দিয়ে করানো যাবে না।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, গত ২১শে জানুয়ারি কলকাতায় মিশন ডিরেক্টরের সাথে বৈঠকে তাদের সমস্যার সমাধান তো হয়নি, উল্টে তাদের ওপর কাজের চাপ ও প্রশাসনিক হয়রানি বাড়ানো হয়েছে। বাণী বসু বলেন, "আমাদের ন্যায্য দাবি না মেনে বিএমওএইচ এবং সিএমওএইচ-এর মাধ্যমে আমাদের শোকজ ও ছাঁটাইয়ের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জলপাইগুড়ি জেলায় আমাদের অনেক কর্মীকে হেনস্থা করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, ১৫ হাজার টাকা বেতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।"
এছাড়াও, মাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটি বা অন্য প্রশাসনিক কাজে আশা কর্মীদের ব্যবহার করার বিরুদ্ধেও এদিন সরব হন নেতৃত্ব। সংগঠনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি না মানা হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊