‘গোপন বৈঠক’? গভীর রাতে জলদাপাড়ায় হাতিদের কাণ্ড দেখে হতবাক নেটপাড়া
নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারিহাট: গভীর রাত। চারিদিক নিস্তব্ধ। চা বাগানের অন্ধকারে আবছা ছায়া। হঠাৎই সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে ভেসে উঠল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। গোল হয়ে দাঁড়িয়ে গম্ভীর আলোচনায় মগ্ন একপাল বন্য হাতি! যেন লোকালয়ে হানা দেওয়ার আগে শেষ মুহূর্তের ‘স্ট্র্যাটেজি’ ঝালিয়ে নিচ্ছে তারা। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মাদারিহাট ব্লকের রামঝোরা চা বাগানের এই দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
রবিবার রাতে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিশেষ নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই বিরল মুহূর্ত। ফুটেজে দেখা যায়, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি হাতির একটি দল চা বাগানের মাঝে এক জায়গায় জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, কোনো এক গভীর বিষয়ে ‘আলোচনা’ চলছে। বনদফরের আধিকারিকদের মতে, দলটির অভিমুখ ছিল গ্রামের দিকে। সম্ভবত লোকালয়ে ঢোকার পরিকল্পনা কষছিল তারা।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় হাসির রোল। কেউ কমেন্ট করেছেন, “এ তো পুরো হাতিদের গোল টেবিল বৈঠক!” আবার কারো মন্তব্য, “গ্রামে হামলার আগে গোপন স্ট্র্যাটেজি মিটিং সেরে নিচ্ছে গজরাজ বাহিনী।”
তবে নেটিজেনরা মজা পেলেও, বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়নি বনদফতর। সিসিটিভিতে হাতির জটলা দেখামাত্রই কন্ট্রোল রুম থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনদফতরের রেসপন্স টিম। হুলা পার্টি ও বনকর্মীদের তৎপরতায় শেষমেশ ‘মিটিং’ ভেস্তে যায়। গ্রামমুখো হওয়ার আগেই নিরাপদভাবে দলটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় রামঝোরা সংলগ্ন গ্রামগুলি।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এলাকায় হাতি-মানুষের সংঘাত নতুন কিছু নয়। প্রায়ই খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দেয় বুনো হাতির দল। ঘরবাড়ি ভাঙচুর থেকে শুরু করে ফসলের ক্ষতি— আতঙ্কে রাত কাটে গ্রামবাসীদের। এই সমস্যা মোকাবিলায় সম্প্রতি প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়েছে জলদাপাড়া কর্তৃপক্ষ। জঙ্গলের সীমানা ও সংলগ্ন চা বাগানগুলিতে বসানো হয়েছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা। খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম।
বনদফতরের এক আধিকারিক জানান, “প্রযুক্তির সাহায্যেই এবার বড় বিপদ এড়ানো গেল। হাতির দলের গোপন পরিকল্পনাও যে ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ে যাবে, তা বোধহয় গজরাজরাও টের পায়নি।”

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊