খামেনির বিরুদ্ধে জনরোষে জ্বলছে ইরান, মৃত ২,৫০০-এর বেশি; 'সাহায্য আসছে', হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ, চলছে সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সরকারি দমন-পীড়নে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২,৫৭১ এ পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন, যার ফলে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ।
মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত ২,৫৭১ জনের মধ্যে ২,৪০৩ জনই সাধারণ বিক্ষোভকারী। এছাড়াও সরকারের সাথে যুক্ত ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই সংঘাতে। সবথেকে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতায় ১২টি শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ধরপাকড় অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৮,১০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের ইরানি আন্দোলনের ইতিহাসে রেকর্ড।
ইরানের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, "সাহায্য আসছে।" একইসঙ্গে ইরানে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প ইরান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হয়, তবে আমেরিকা এমন কঠোর পদক্ষেপ নেবে যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি। তবে সেই পদক্ষেপের প্রকৃতি সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং প্রাক্তন স্পিকার আলী লারিজানি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ একটি বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে তিনি ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি অভিযুক্ত করে লিখেছেন, "আমরা ইরানি জনগণের প্রধান খুনিদের নাম উল্লেখ করছি— প্রথম: ট্রাম্প, দ্বিতীয়: নেতানিয়াহু।"
অন্যদিকে, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বিশ্ব কেবল আপনাদের কণ্ঠস্বর শুনছে না, সাড়াও দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা আপনারা শুনেছেন। সরকারের তৈরি করা মিথ্যে শান্তিতে বিভ্রান্ত হবেন না।" তিনি আরও বলেন, এই গণহত্যার ফলে জনগণের সাথে শাসকের মাঝে রক্তের নদী বয়ে গেছে। অপরাধীদের নাম মনে রাখার এবং তাদের শাস্তির মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে এখনও সহিংস বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊