নিউ ইয়ারে এই দেশে সূর্য ওঠার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে গেল ৪০০ বছরের ইতিহাস
ডেনমার্কে ডাকব্যবস্থার অবসানকে অনেকেই ইতিহাসের এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। চার শতকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই পরিষেবা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিনে শেষ চিঠি বিতরণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ১৬২৪ সালে ডেনমার্কে ডাক ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, আর সেই থেকে চিঠি মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস বদলেছে। ইমেল, মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল মাধ্যমের প্রসার এতটাই বেড়েছে যে চিঠি লেখার রেওয়াজ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পোস্টনর্ড এই ঘোষণা দেয় যে আর কোনো চিঠি পাঠানো হবে না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে চিঠির সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। মানুষ এখন আর প্রিয়জনকে চিঠি লেখেন না, অফিসিয়াল যোগাযোগও অনেক আগে থেকেই অনলাইনে চলে গেছে। ডাকবাক্সগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে ডাক পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো অর্থ নেই। পোস্টনর্ডের প্রধান নির্বাহী কিম পেডারসেন খানিক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চিঠি বিতরণ করেছি। সেটা বন্ধ হল। এখন ডেনমার্কের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ই-কমার্স।”
ডেনমার্কে ডাকব্যবস্থার এই সমাপ্তি শুধু একটি দেশের সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের পরিবর্তনের প্রতীক। প্রাচীন মিশরে ফারাওদের উদ্যোগে খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ সালে ডাক ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। ভারতে আধুনিক ডাক ব্যবস্থা শুরু হয় ১৭৭৪ সালে। সেই ধারাবাহিকতায় ডেনমার্কে ১৬২৪ সালে ডাক পরিষেবা শুরু হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা ডাকযোগে চিঠি পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করে দিল।
এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই যুগের দাবি হিসেবে দেখছেন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ডিজিটাল পেমেন্ট—সব মিলিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। ডাকের মাধ্যমে মানি অর্ডার পাঠানোর প্রয়োজন নেই, চিঠির জায়গা নিয়েছে ইমেল। ফলে ডাকব্যবস্থার মৃত্যু যেন অনিবার্যই ছিল। ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ তাই একদিকে মনখারাপের, অন্যদিকে নতুন যুগের সূচনার প্রতীক।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊