‘সুইচ অফ’ বিধায়কের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষোভ! বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে ট্রলি ভর্তি গোবর ঢেলে ‘শুদ্ধিকরণ’ মারুগঞ্জে
নিজস্ব সংবাদদাতা, তুফানগঞ্জ: বিধায়ক ‘নিখোঁজ’, এলাকায় উন্নয়নও নেই—এই অভিযোগে বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামীর বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠল কোচবিহারের নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে। বুধবার তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের মারুগঞ্জ এলাকায় বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে দু’টি ট্র্যাক্টর ভর্তি গোবর ঢেলে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন স্থানীয়রা। এই বিক্ষোভে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ রাজনৈতিক তর্জাকে আরও উসকে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত পাঁচ বছরে নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে এলাকায় সেভাবে দেখা যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের মতে তিনি ‘সুইচ অফ এমএলএ’ (Switch-off MLA)। অভিযোগ, ভোটের পর তিনি আর সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াননি এবং তার বিধায়ক তহবিল থেকে এলাকায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই বুধবার সকালে মারুগঞ্জ বাজারের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বহু মানুষ। সেখানে ‘মারুগঞ্জ শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং ট্র্যাক্টর থেকে সরাসরি পার্টি অফিসের দরজায় পচা গোবর ঢেলে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন মারুগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ঈশ্বর সরকার এবং প্রধান তপন কুমার রায়। যদিও তাঁরা দাবি করেছেন এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, তবুও ভিডিও ফুটেজে তাঁদের বিক্ষোভের অগ্রভাগে দেখা গিয়েছে।
তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সদস্য ঈশ্বর সরকার বলেন, "সকাল ৯টায় খবর পাই সাধারণ মানুষ বিজেপি অফিসের সামনে গোবর নিয়ে আন্দোলন করছে। আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে আসি। গত পাঁচ বছর মিহির গোস্বামী মানুষের পাশে দাঁড়াননি। বিজেপি নেতারা এসি রুমে বসে রাজনীতি করছেন। তাই আজ গোবর দিয়ে বিজেপি পার্টি অফিস এবং তাদের ‘নেতিবাচক রাজনীতি’র শুদ্ধিকরণ করা হলো"।
বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই গোবর তাঁরা সরাবেন না। তাঁদের দাবি, বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে নিজে এসে এই গোবর পরিষ্কার করতে হবে এবং পার্টি অফিসে ঢুকতে হবে। তবে তার আগে গত পাঁচ বছরে তিনি কত টাকার উন্নয়ন করেছেন এবং কোথায় সেই উন্নয়ন, তার হিসেব সাধারণ মানুষের কাছে দাখিল করতে হবে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তপন কুমার রায় অভিযোগ করেন, "মিহির গোস্বামী মিথ্যাচার করে জিতেছেন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে ভোটার লিস্ট ভেরিফিকেশনের (SIR/SSR) নামে হয়রানি করা হচ্ছে, অথচ নির্বাচিত বিধায়ক মানুষের পাশে নেই। যদি তিনি মানুষের কাজ না করেন, তবে তিনি পার্টি অফিসে ঢুকতে পারবেন না"।
মিহির গোস্বামী, যিনি রাজ্যের তিনটি ভিন্ন দল থেকে তিনবার বিধায়ক হয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তৃণমূল দাবি করছে এটি জনরোষের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিরোধীদের পার্টি অফিস দখল বা অচল করতেই শাসকদল এই ধরনের ‘অগণতান্ত্রিক’ পথ বেছে নিয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊