Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কি ফাঁসছেন? সাইফুল হত্যা মামলায় চার্জ গঠন করল আদালত

চিন্ময়কৃষ্ণ-সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, মামলার বিচার শুরু আজ

Chinmoy Krishna Das, Bangladesh Court, Saiful Islam Alif Murder Case, ISKCON, Chattogram Tribunal, Section 302, Hindu Minority Rights Bangladesh

চট্টগ্রাম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: বহু নাটকীয়তা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী (Chinmoy Krishna Das)-সহ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল চট্টগ্রামের আদালত।


সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক এই অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে দেড় বছর আগে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে (Chinmoy Krishna Das) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে, যা ‘বিচারের নামে প্রহসন’ ছাড়া আর কিছুই নয়।


সোমবার সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna Das)-সহ কারাগারে থাকা ২৩ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিচারক জাহিদুল হক উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানির পর অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেন।


আদালত সূত্রে খবর, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (Chinmoy Krishna Das) বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) ও ১০৯ (অপরাধে প্ররোচনা বা সাহায্য করা) ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, তাঁর উস্কানিতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।


মোট ৩৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে চিন্ময় দাস (Chinmoy Krishna Das)-সহ ২৩ জন বর্তমানে জেলবন্দি। বাকি ১৬ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতেই বিচার কাজ চলবে। অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০২ ও ৩৪-সহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।


ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর। এর আগের দিন, ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে (Chinmoy Krishna Das)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে তোলা হলে জামিন নামঞ্জুর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। সেই সংঘর্ষ চলাকালীনই তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।


নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। চিন্ময় কৃষ্ণের (Chinmoy Krishna Das) আইনজীবীদের দাবি, ঘটনার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ পুলিশ হেফাজতে ছিলেন, তাই প্রত্যক্ষভাবে খুনের সঙ্গে তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই অভিযোগ গঠনকে তাঁরা ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, চিন্ময় কৃষ্ণের (Chinmoy Krishna Das) প্ররোচনাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই মামলা ও চিন্ময় কৃষ্ণের দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সনাতনী সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code