‘কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সুপ্রিম কোর্ট’! SIR নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থেকে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) সংক্রান্ত নির্দেশকে এক প্রতিশোধজোড়া বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দিকেও তীব্র আক্রমণ চালান।
বারাসতে একটি জনসভায় বক্তৃতা করতে উঠে প্রথমেই অভিষেক বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশই তৃণমূল কংগ্রেসের দাবিরই স্বীকৃতি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
অভিষেক বলেন, “যারা বাংলার মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে, তাদের দু’গালে দুটো কষিয়ে চড় মেরেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপির SIR-এর খেলা শেষ কারণ সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে কমিশনকে বাধ্য করেছে।
নিজের বক্তব্যে অভিষেক আরও দাবি করেন, গত দুই থেকে আড়াই মাস ধরে গরিব ও বয়স্ক ভোটারদের তথ্যগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঠিক থাকা নথিপত্র সত্ত্বেও বহু ভোটারের নাম স্বেচ্ছাচারিভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা “অন্যায় ও বেআইনি” বলে দাবি করেন তিনি।
অভিষেক বলেন, তৃণমূলই এই তালিকা প্রকাশের দাবি বারবার তোলা হয়েছিল এবং সেই দাবিকে শীর্ষ আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনকে এখন “গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে সেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে,” যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে।
সঙ্গী নেতার বক্তব্যে রাজনৈতিক রং আরও স্পষ্ট দেখা যায়। অভিষেক বলেন, “আমরা কোর্টে আজ হারালাম, আর এপ্রিলে ভোটে বিজেপিকে হারাব,” এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ২৫০টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে তৃণমূল বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া অভিষেক নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, কমিশন পদক্ষেপগুলোর ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিষেক আরও জানান, বিএলএ-২ সংক্রান্ত এই দাবি তৃণমূল আগেই জানিয়েছিল কমিশনকে। কিন্তু ওই সময়ে কমিশন তাদের বলে দিয়েছিল, বিএলএ-২ থাকবেন না শুনানিকেন্দ্রে। কমিশনের ওই আপত্তি প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “আমরা তখন বলেছিলাম, তা হলে নির্দেশিকা জারি করুন। নির্দেশিকা জারি না হলে তৃণমূল কংগ্রেস শুনানিকেন্দ্র ছাড়বে না।” তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসলে বাংলার সাধারণ মানুষের জয়। বিজেপি এবং কমিশনের আঁতাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এক কোটি মানুষকে বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবে বলেছিল। এই জয় সেই খেটে খাওয়া মানুষের জয়, বাংলার জয়, মা মাটি মানুষের জয়।”
বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে অভিষেকের প্রশ্ন, “কার ক্ষমতা বেশি মোদীজি? দশ কোটি মানুষ, না বিজেপির জমিদার? আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব। তৈরি থাকো।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যে দাবিগুলি নিয়ে সংসদের ভিতরে, বাইরে, জনসভায় সরব হয়েছিলাম, সেই দাবিকে মান্যতা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বলেছে, শুধু লিস্ট রিলিজ়ই হবে না, গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে তালিকা টাঙাতে হবে। আমরা তো এটাই চেয়েছিলাম। বিজেপি ভেবেছিল যারা এদের ভোট দেয় না, যারা এদের হারিয়েছে, তাদের জব্দ করবে। সেই কারণে এক কোটি মানুষকে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিত ভাবে মোদী সরকার এবং কমিশন বাদ দিতে চেয়েছিল।”
সুপ্রিম কোর্টের এই SIR-সংক্রান্ত রায় ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রভাব আরও প্রবল হতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊