Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Chicken's Neck Corridor: ভারতের 'ঘাড়ের' কাছে চিনের নিঃশ্বাস! 'চিকেনস নেক' রক্ষায় সীমান্তে বসল মিসাইল শিল্ড, সক্রিয় যুদ্ধকালীন তৎপরতা

ভারতের 'ঘাড়ের' কাছে চিনের নিঃশ্বাস! 'চিকেনস নেক' রক্ষায় সীমান্তে বসল মিসাইল শিল্ড, সক্রিয় যুদ্ধকালীন তৎপরতা

Chicken's Neck Corridor, Siliguri Corridor Security, Teesta Project China Bangladesh, India National Security, S-400 Missile System, Lalmonirhat Airbase, Yao Wen Teesta Visit, India-China Border Tension, North Bengal Border Security, BSF Surveillance.


শিলিগুড়ি ও কলকাতা: ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর 'চিকেনস নেক' বা শিলিগুড়ি করিডরের (Chicken's Neck Corridor) খুব কাছেই চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবুজ সংকেতে রংপুরের তিস্তা প্রকল্প এলাকায় চিনা রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গ ও অসম সীমান্তে নজিরবিহীন সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সম্প্রতি বাংলাদেশের রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, চিনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় 'তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট' (Teesta Project China Bangladesh)-এর কাজ দ্রুত শুরু করতে চায় তারা।

ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় হলো—যেখানে চিনা প্রতিনিধিরা সমীক্ষা চালিয়েছেন, সেখান থেকে ভারতের 'চিকেনস নেক' করিডরের (Chicken's Neck Corridor) দূরত্ব অত্যন্ত কম। তিস্তা ব্যারেজ এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ চিনের হাতে গেলে, শিলিগুড়ি করিডরের ওপর নজরদারি চালানো চিনের পক্ষে জলভাত হয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor Security) ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের (সেভেন সিস্টার্স) সংযোগকারী একমাত্র রাস্তা। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চিনের খুব কাছে অবস্থিত এই করিডরটি ভারতের 'অ্যাকিলিস হিল' বা দুর্বলতম স্থান। গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন, এই অঞ্চলে চিনের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি বা নজরদারি পরিকাঠামো তৈরি হলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চিন সহজেই উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাকি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এতে প্রায় ৫ কোটি ভারতীয়র নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশের লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ। অভিযোগ, এই বিমানঘাঁটি সচল করতে চিনের প্রযুক্তিগত সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। শিলিগুড়ি করিডরের এত কাছে চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বা চালিত বিমানঘাঁটি ভারতের আকাশসীমার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

চিন ও বাংলাদেশের এই যৌথ তৎপরতার জবাবে ভারত হাত গুটিয়ে বসে নেই। শিলিগুড়ি করিডর এবং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হচ্ছে:

১. এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন: আকাশপথে যে কোনও হামলা প্রতিহত করতে এবং শত্রুপক্ষের বিমানে নজর রাখতে সীমান্তে রাশিয়ার থেকে কেনা শক্তিশালী 'এস-৪০০' (S-400 Triumf) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

২. পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ পুনরুজ্জীবন: উত্তরবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরার মোট সাতটি পুরনো এবং পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি বা এয়ারস্ট্রিপ দ্রুত সচল করার কাজ শুরু করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গেই রয়েছে পাঁচটি। কোচবিহার এবং অসমের রূপসী বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই অনেকটা প্রস্তুত। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এখান থেকেই ফাইটার জেট বা সামরিক হেলিকপ্টার অপারেশন চালাতে পারবে।

৩. স্মার্ট ফেন্সিং ও নজরদারি: কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। সীমান্তের ৭৫ শতাংশ এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে নতুন ডিজাইনের কাঁটাতারে। বসানো হয়েছে নাইট ভিশন ক্যামেরা এবং সেন্সর। এর ফলে সীমান্তে গাছের পাতা নড়লেও তা বিএসএফ-এর কন্ট্রোল রুমে ধরা পড়বে।

৪. নতুন সামরিক ঘাঁটি: শিলিগুড়ি করিডরকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকতে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জে নতুন করে সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক হাব তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার সুযোগে বাংলাদেশে চিনের এই অনুপ্রবেশ নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ইউনুস সরকারের আমলে ঢাকার সঙ্গে বেজিংয়ের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের নিরাপত্তা বলয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী যেভাবে 'চিকেনস নেক'-এ তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে, তাতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—সীমান্তে কোনও আপস করবে না ভারত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code