কোচবিহারে বাজি ফাটানো নিয়ে বিতর্ক: এসপি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, সমর্থনে পথে অ্যানিমেল অ্যাসোসিয়েশন, পথে বিজেপিও
গত সোমবার গভীর রাতে কালীপূজা উপলক্ষে কোচবিহারের রেলঘুমটি এলাকায় বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে যে, কোচবিহার জেলা এসপি বাংলো সংলগ্ন এলাকায় বাজি ফাটানো হয় এবং এসপি বাংলো লক্ষ্য করে বাজি ছোঁড়া হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারির পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর পাশাপাশি, কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মহিলা ও শিশুদের মারধরের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের প্রতিবাদে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার স্থানীয় মানুষজন এসপি বাংলোর সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং পথ অবরোধ করেন। পুলিশ অবরোধকারী ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং বুধবার তাদের আদালতে পেশ করে। যদিও এসপি দ্যুতিমান ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যমে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বুধবার কোচবিহার আদালত গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনের মধ্যে মহিলা আইনজীবী সহ তিন মহিলাকে জামিন দেয়। মহিলার স্বামী পার্থ রায় সহ ৫ জনকে দুদিনের পুলিশ হেফাজত এবং বাকি দুজনকে দুদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি আইনজীবী শিবেন্দ্র নাথ রায় এই তথ্য জানান।
এই পরিস্থিতিতে, বুধবার সন্ধ্যায় দিনহাটার রাজপথে মিছিল করে কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের সমর্থনে প্রতিবাদ জানায় 'অ্যানিমেল অ্যান্ড ন্যাচার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন'। তাদের মধ্যে বাচিক শিল্পী শ্রীলা সূত্রধর জানান, নিষিদ্ধ শব্দবাজি থেকে পশু-পাখি, প্রবীণ ও শিশুরা সমস্যায় পড়ে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কোচবিহারের পুলিশ সুপার একজন পরিবেশ বান্ধব মানুষ। তিনি নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যে মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে, বাজি ফাটানোর ঘটনা এবং গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরব হয়। বুধবার বিকেলে কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয় থেকে মিছিল বের করে দলীয় বিধায়ক, নেতা-কর্মীসহ সমর্থকরা কোচবিহার কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করেন।
তাঁরা জেলা পুলিশ সুপারকে ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি বাজি পোড়ানোর ঘটনায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তোলেন। এমনকি জেলা পুলিশ সুপারকে গ্রেপ্তার করারও দাবি জানানো হয়।
বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে বলেন, বাজি পোড়ানোর ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে।
দীপাবলি রাতে বাজি ফাটানো নিয়ে কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের লাঠিচার্জের ঘটনায় মুখ খোলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তিনি বলেন, "একটা মানুষের দোষগুণ দুইটাই থাকে তবে এই এসপি অন্তত মারকুটে নয়। ... তবে যদি তিনি লাঠিচার্জ করে থাকেন তাহলে সেটা না হলেই ভালো হতো। সেই সাথে এটাও দেখতে হবে এত রাতে একটা লোক কেন উত্তেজিত হলো? যারা অভিযোগ করছে তারাই সময়ের কথা উল্লেখ করেছে কিন্তু নির্দেশিকা রয়েছে রাত দশটার পর বাজি ফাটানো যায় না।" এই প্রসঙ্গে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে আবারো 'বিকৃত মস্তিষ্ক' বলে কটাক্ষ করেন।
সবমিলিয়ে, কোচবিহারের রেলঘুমটি এলাকার এই বাজি ফাটানোর ঘটনা এবং পরবর্তী লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক উত্তাল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊