শাহিবজাদা ফারহানের ‘বন্দুক চালানো’ সেলিব্রেশন ঘিরে বিতর্কের ঝড়, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শালীনতা নিয়ে
দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর সুপার ফোর পর্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝলসে উঠেছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। ৪৫ বলে ৫৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস, ৩টি ছয় ও ৫টি চার—সব মিলিয়ে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর ব্যাটিং নয়, বরং হাফ সেঞ্চুরি উদযাপনের বিতর্কিত ভঙ্গিমা।
হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ফারহান ব্যাট হাতে বন্দুক চালানোর ভঙ্গি করেন, যা দেখে হতবাক হয়ে যান মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকরা। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ একে ‘উস্কানিমূলক’ ও ‘অশোভন’ বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ বলছেন এটি তাঁর ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ।
এই সেলিব্রেশন ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন এক সময়, যখন কয়েক মাস আগেই জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগামে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন ভারতীয় পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে ফারহানের বন্দুক চালানোর ভঙ্গি অনেকের কাছে সংবেদনশীলতার সীমা লঙ্ঘন করেছে বলেই মনে হয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকরা ছাড়াও রাজনৈতিক মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। শিবসেনা (UBT)-র রাজ্যসভার সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এই দৃশ্য কি ‘অলিম্পিক স্পিরিট’-এর সঙ্গে মানানসই? রক্তের উপর ব্যবসা করে যাঁরা ব্যস্ত, তাঁদের জন্য হয়তো এটি ‘ট্রিগারিং’ নয়।”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য। ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতিফলনও। সেই জায়গা থেকেই ফারহানের সেলিব্রেশনকে ‘অপেশাদার’ ও ‘উস্কানিমূলক’ বলেই মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ম্যাচের টসের সময়ও ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান। আগের ম্যাচেও ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তান দলের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই জয় উৎসর্গ করেছিলেন পাহালগাম হামলায় নিহতদের ও ভারতীয় সেনাবাহিনীকে।
ফারহানের সেলিব্রেশন শুধু বিতর্ক নয়, বরং ক্রিকেটের মাঠে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এমন আচরণ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শালীনতা ও সংবেদনশীলতার প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊