Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬-এর প্রথম পর্বের পরীক্ষা সমাপ্ত- একাধিক বিষয়ে অসঙ্গতি

নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬-এর প্রথম পর্বের পরীক্ষা সমাপ্ত- একাধিক বিষয়ে অসঙ্গতি

সেমিস্টার, উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬,


জলপাইগুড়ি: ২০২৪ সাল থেকে চালু হওয়া নতুন শিক্ষানীতি ও পরীক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬-এর প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলাতেও এই নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথাগত পরীক্ষার রীতির পরিবর্তে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সেমিস্টারভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়েছে, যার প্রথম পর্ব সম্পন্ন হলো আজ।

জলপাইগুড়ি জেলায় মোট ৭৪টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। জানা গেছে, মোট ১৪,৯৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬,৩৯৫ জন ছাত্র এবং ৮,৫৩৫ জন ছাত্রী এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। গত ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) শেষ হয়েছে।

নতুন শিক্ষানীতির অধীনে, একাদশ শ্রেণির জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং দ্বাদশ শ্রেণির জন্য তৃতীয় ও চতুর্থ সেমিস্টার মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এখন যে পরীক্ষাটি হলো, সেটি একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা, যা উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৭-এর একটি অংশ। এরপর আগামী মার্চ ২০২৬ নাগাদ দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই নতুন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং সারা বছর ধরে ধারাবাহিক মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে। প্রথম পর্বের পরীক্ষা সুসম্পন্ন হওয়ায়, এখন শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিতে হবে আগামী বছরের দ্বিতীয় সেমিস্টারের জন্য, যা উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে নতুন শিক্ষানীতির অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সেমিস্টারভিত্তিক পদ্ধতি চালু হলেও এর প্রথম ধাপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন দাবী করেছেন। পরীক্ষার সময়সূচী থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্রের কাঠামো পর্যন্ত বিভিন্ন দিকে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে, যা পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথমত, পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের খুব সকালে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই সময়টি আরও যুক্তিসঙ্গত করে বেলা ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়াও, একই স্কুলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে, তাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র ভিন্ন স্কুলে করার দাবি উঠেছে। একই ব্যক্তিদের বারবার কনভেনার ও জয়েন্ট কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে, যার পরিবর্তে নতুন শিক্ষকদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, প্রশ্নপত্রের মান ও বিন্যাস নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ৪০ নম্বরের জন্য ৪০-৫০ পাতার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিশাল। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা পাতা ওল্টাতেই সময় নষ্ট করছে এবং মানসিক চাপে পড়ছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্রে 'বাম দিক-ডান দিক মেলানো'র মতো কিছু প্রশ্নশৈলী অতিরিক্ত সময়সাপেক্ষ বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যা বাতিল করার কথা বলা হচ্ছে। অনেক বিষয়ে রাফ পেজের অপ্রতুলতাও একটি বড় সমস্যা। পরীক্ষার রুটিন তৈরিতেও সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনার অভাব দেখা গেছে, যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আগে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত ছুটি রাখা হয়নি।

তৃতীয়ত, প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু ও গঠন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। পদার্থবিদ্যা, হিসাববিজ্ঞান এবং গণিতের মতো বিষয়গুলিতে এমন কিছু প্রশ্ন করা হয়েছে যা শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়গুলো সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্রের প্রতিটি পাতায় বুকলেট নম্বর মুদ্রণ করা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন পড়তে অসুবিধা হচ্ছে, যা প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় অথবা একপাশে মুদ্রণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, মডারেটর নির্বাচনের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code