সাড়ে তিনশো বছরের ইতিহাস ভেঙে পড়ল—নিশ্চিহ্ন বর্ধমানের রাজা মেহতাব চাঁদের রাজ মন্দির
সঞ্জিত কুড়ি পূর্ব বর্ধমান:-
সাড়ে তিনশো বছরের ইতিহাস ভেঙে পড়ল—নিশ্চিহ্ন বর্ধমানের রাজা মেহতাব চাঁদের রাজ মন্দির!রাজাদের ঐতিহ্য আজ কেবল স্মৃতিচিহ্ন! এলাকার সাধারণ মানুষ ভেঙে যাওয়া সেই ইট নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য।
বর্ধমানের রাজাদের ঐতিহ্য আজ কেবল স্মৃতিচিহ্ন। ধুলোয় মিশে গেল রাজা মেহতাব চাঁদের আমলে গড়ে ওঠা প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরোনো লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির। বুধবার হঠাৎ ভেঙে পড়ল ইতিহাস, স্তব্ধ হয়ে গেল প্রজন্মের স্মৃতি।
একদিন এই রাজমন্দির ছিল পূজার কেন্দ্রবিন্দু। দুর্গাপুজোর সময় রাজপরিবারের সদস্যরা আসতেন, রাজরানী উপবাস করতেন, ভক্তরা সমবেত হতেন। পহেলা বৈশাখেও জমত বিশেষ পুজো। সেই মন্দিরেই বুধবার ধ্বংসস্তূপ, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী ইট-পাথর।
স্থানীয়দের দীর্ঘশ্বাস—বহু বছর ধরে সংস্কারের অভাবেই শেষপর্যন্ত ধ্বংস হল এই ঐতিহ্য। পুরোহিতের আক্ষেপ, “একটু নজরদারি, সামান্য সংস্কার হলে হয়তো আজও দাঁড়িয়ে থাকত মন্দিরটা"।
ধসে পড়া ইট হাতে নিয়ে চোখ ভিজে যায় এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুশান্ত দাসের। কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে, “একটা বহুদিনের ইতিহাস নষ্ট হয়ে গেল। এই গোল ইটগুলো অমূল্য ছিল। দুটো ইট আমি বাড়িতে নিয়ে যাব স্মৃতি হিসেবে। এগুলো তো আর পাওয়া যাবে না"।
ভগ্নাবশেষে দাঁড়িয়ে মানুষজন যেন সময়ের কাছে হেরে যাওয়া ইতিহাসকে বিদায় জানাচ্ছেন। রাজা মেহতাব চাঁদের হাতে গড়া এই মন্দির বর্ধমানের ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল, আজ তা কেবল স্মৃতিপটে ঝলসে ওঠা অতীত।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ