পুজোর আগে ধসের দাপট, বিপাকে সিকিম ও উত্তরবঙ্গ পর্যটন
সিকিম, ৩০ আগস্ট, ২০২৫: শারদোৎসবের মুখে এক বড় বিপত্তি। শুক্রবার গভীর রাতে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ ধস নেমে সিকিমমুখী প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সেবক বাগপুল এবং কালিঝোড়ার মাঝামাঝি এলাকায় পাহাড়ি ঢাল থেকে অনবরত পাথর ও মাটি গড়িয়ে পড়ার ফলে এই ঘটনা ঘটেছে । এর জেরে রাত থেকেই অসংখ্য পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী মাঝরাস্তায় আটকে পড়েছেন ।
ধস নামার পর আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী তাঁদের গাড়ি ফেলে পায়ে হেঁটে শিলিগুড়ির দিকে রওনা দেন । তাঁদের মতে, ধস নামার শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন পুরো পাহাড়টাই ভেঙে পড়ছে।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শনিবার সকাল থেকে ধস সরানোর কাজ শুরু হয়েছে । তবে, মাটি ও পাথরের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় রাস্তা কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে । বর্তমানে, এই রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে গাড়ি চলাচলের জন্য অযোগ্য ।
শিলিগুড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ধস সরানোর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিকিমমুখী যানবাহনের জন্য বিকল্প রাস্তার সন্ধান করা হচ্ছে । একই সাথে, পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে এই ধসপ্রবণ এলাকায় অপ্রয়োজনে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।
পুজোর মরসুমে এমন ঘটনায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। সিকিম এবং দার্জিলিংয়ের হোটেল ও হোমস্টেগুলোতে ইতিমধ্যেই প্রচুর বুকিং ছিল । কিন্তু রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু পর্যটক তাঁদের ভ্রমণ বাতিল করতে পারেন, যা এই মরসুমের পর্যটন শিল্পে এক বড় ধাক্কা দেবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি বছর বর্ষার সময় সেবক, কালিঝোড়া এবং বাগপুল এলাকায় ধস নামে, যার ফলে দিনের পর দিন জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকে । কিন্তু এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় না, যার ফলস্বরূপ প্রতি বছর সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের একই দুর্ভোগের শিকার হতে হয় ।
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊