Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

মূলধারার শিক্ষাকে গুরুকুল শিক্ষার সাথে সংযুক্ত করার আহ্বান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্যে শিক্ষানীতি, জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংস্কারের আহ্বান

RSS education policy, Mohan Bhagwat speech, Gurukul education model, Indian languages in education, Sanskrit education India, RSS on caste system, national integration RSS, population change India, RSS view on employment, RSS on social harmony, Bhagwat on Ayodhya Kashi Mathura

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত তিন দিনের সংলাপের শেষ দিনে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত এক বিস্তৃত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষানীতি, ভাষা, জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি, আত্মরক্ষা, অনুপ্রবেশ, এবং সামাজিক বিভাজন নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষানীতির পুনর্বিন্যাস ও গুরুকুল মডেল

ভাগবত বলেন, “পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা বিদেশী শাসকদের দ্বারা তৈরি, যা জনগণকে দাসে পরিণত করেছিল। নতুন শিক্ষানীতি স্বাধীন ভারতের প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে, যাতে জনগণকে পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া যায়।” তিনি মূলধারার শিক্ষাকে গুরুকুল শিক্ষার সাথে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান, যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মাতৃভাষার গুরুত্ব থাকবে। ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “গুরুকুল মানে আশ্রমে থাকা নয়, বরং শিকড়ের সাথে সংযোগ।”

ভাষা ও সংস্কৃত শিক্ষার গুরুত্ব

ভাগবতের মতে, “দেশে ব্যবহৃত প্রতিটি ভাষাই জাতীয় ভাষা। বিদেশী ভাষা নয়।” তিনি বলেন, মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারে। সংস্কৃত শিক্ষার পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, “সংস্কৃত ছাড়া আমাদের ধর্মগ্রন্থ ও ঐতিহ্যকে বোঝা যায় না। অনুবাদে ভুল ধারণা ছড়ায়।”

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য

তিনি বলেন, “ইংরেজি উপন্যাস পড়া উচিত, কিন্তু প্রেমচাঁদের মতো ভারতীয় লেখকদের উপেক্ষা করা ঠিক নয়।” ভাষা শেখা ও সাহিত্য পাঠের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আন্দোলন, ধর্মীয় স্থান ও সংঘের অবস্থান

ভাগবত বলেন, “রাম মন্দির আন্দোলন ছাড়া সংঘ অন্য কোনও আন্দোলন সমর্থন করেনি। তবে স্বেচ্ছাসেবকরা স্বাধীন।” কাশী-মথুরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই স্থানগুলো হিন্দু মানসিকতায় গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধু তিনটি স্থানেই জোর দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য।”

রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি

তিনি বলেন, “সংঘের কারও প্রতি বিদ্বেষ নেই। সকল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো।” প্রণব মুখার্জির সংঘ সদর দপ্তর পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “সংঘ সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হয়েছে।”

একীভূত ভারত ও দেশভাগ প্রসঙ্গ

ভাগবত বলেন, “অবিভক্ত ভারত একটি চিরন্তন সত্য। যারা এই সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা মূল্য দিয়েছে।” তিনি দেশভাগের বিরোধিতা এবং মহাত্মা গান্ধীর অবস্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

চাকরি, শ্রম ও স্ব-কর্মসংস্থান

তিনি বলেন, “শিক্ষাকে চাকরির সমার্থক ভাবা বড় সমস্যা। শ্রমের প্রতি অবজ্ঞা এবং স্ব-কর্মসংস্থানের অভাব সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।”

আত্মরক্ষা ও অস্ত্র ধারণ

ভাগবত বলেন, “অস্ত্র ধারণ মানে যুদ্ধ নয়, আত্মরক্ষা। আমরা বুদ্ধের দেশ, কিন্তু বিশ্বের সব দেশ বুদ্ধের আদর্শে চলে না।”

অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যা পরিবর্তন

তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশের ফলে দেশের মৌলিক চরিত্র হুমকির মুখে। বসুধৈব কুটুম্বকম নীতির ভিত্তিতে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত।”

জাতিভেদ ও সংরক্ষণ

ভাগবত বলেন, “জাতিভেদ প্রথা এখন বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে। সংবিধান নির্ধারিত সংরক্ষণ নীতিকে সংঘ পূর্ণ সমর্থন করে।” তিনি একটি শোষণমুক্ত ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code