৭৫-এ অবসর নেবেন মোদি? কি বললেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৭৫ বছরে পা দিলেই পদত্যাগ করবেন—সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিলেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “আমি কখনও বলিনি যে আমি বা অন্য কেউ ৭৫ বছর বয়সে অবসর নেব বা নিতে হবে।”
ভাগবতের বক্তব্য, সংঘের কাজে ব্যক্তিগত ইচ্ছার কোনো ভূমিকা নেই। সংগঠন যে দায়িত্ব দেয়, বয়স যাই হোক না কেন, সেটি পালন করতেই হয়। তাঁর কথায়, “আমি যদি ৮০ বছর বয়সেও থাকি আর সংঘ যদি আমাকে শাখা চালাতে বলে, তবে আমাকে করতেই হবে।”
RSS শতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে ভাগবতের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। বিশেষ করে, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গে যে আলোচনা চলছিল, এই বক্তব্য সেই জল্পনার অবসান ঘটাল।
বয়সের দরুণ লালকৃষ্ণ আডবানি, মুরলি মনোহর জোশীদের সরতে হলে, মোদি কেন সরবেন না, প্রশ্ন তুলছিলেন অনেকেই। সেই নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, আগুনে ঘি ঢেলেছিল মোহন ভাগবতের একটি মন্তব্য। তাঁর বক্তব্য় ছিল, 'বয়স ৭৫ হলে থেমে যাওয়া উচিত'। এতদিন পর সেই নিয়ে মুখ খুললেন ভাগবত। তাঁর দাবি, কাউকে অবসর নিতে বলেননি তিনি। বয়স ৭৫ হলে গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকার রীতি বহুদিন ধরেই চলে আসছে সঙ্ঘে। লালকৃষ্ণ আডবানি, মুরলি মনোহর জোশী, যশবন্ত সিংহদের সেই কারণেই নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা 'মার্গদর্শক মণ্ডলী'তে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু সঙ্ঘের সেই আদর্শ মোদি মানবেন কি না, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। সেই আবহেই জুলাই মাসে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন ভাগবত।
দিল্লিতে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হন ভাগবত। জবাবে ভাগবত বলেন, "এখানে তথ্যে খামতি রয়েছে। শ্রীমান ভাইয়াজি দানি দীর্ঘ সময় ধরে, সবচেয়ে কঠিন সময়ে সঙ্ঘের দায়িত্বে ছিলেন। উনি ভাল কৃষক ছিলেন, সংসারী মানুষ ছিলেন। গৃহস্থ কাজ করতে পারবেন না, বা এখানে আসতে পারবেন না এমন নয়। কিন্তু এখানে এলে সময় দিতে হয়, সংসারেও সময় দিতে হয়। সঙ্ঘ চায়, যে কাজই করুন, ভাল করে করুন। ওঁর সংসার ভাল চলছিল। কারও হাতে দায়িত্ব দিয়ে আসতে পেরেছিলেন উনি। আমার মতো ভাষণ দেওয়া অনিলজিও সংসারী। সঙ্ঘে ৩৫০০ প্রচারক রয়েছেন। ছোট-বড় মিলিয়ে কার্যকর্তার সংখ্যা ৫-৭ লক্ষ। সেই নিরিখে আমরাই আশাহীন সংখ্যালঘু। ঘর-সংসার নেই বলেই সর্বক্ষণ আছি, আমাদের উপর দায়িত্ব বেশি। আসলে গৃহস্থ লোক আমাদের কাঁধে বোঝা চাপিয়ে, পিছন থেকে পরিচালনা করছেন। বাজার ওঁরা করবেন, মালপত্র আমাদের কাঁধে। আমরা ওঁদের শ্রমিক। আমাদের এখানে বসিয়ে প্রণাম করেন। সঙ্ঘ আসলে বড় বিচিত্র। ভিতরে প্রবেশ করলেই বুঝবেন।"
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊