মা আসছে ...

কথায় আছে ভাদ্র মাসে তালের বড়া- কিন্তু জানেন কি পাকা তালের উপকারিতা ?

Health benefits of Asian Palmyra Palm or Taal fruit in Bengali
ছবি: সংগৃহীত

তালগাছের কথা উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত ছড়াটির কথা—
"তালগাছ একায়ে দাঁড়িয়ে,
সব গাছ ছাড়িয়ে,
উঁকি মারে আকাশে।"

একায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ, আর তার পাতায় দোল খাওয়া বাবুই পাখির বাসা— এ এক অনিন্দ্য সুন্দর গ্রামীণ ছবি। তবে শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, আমাদের খাদ্যতালিকাতেও তাল (Asian Palmyra Palm)-এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ভাদ্র মাসে (Bhadra Mas Special) বাঙালির ঘরে ঘরে তালের কদর বাড়ে।

তালের পুষ্টিগুণ: কী কী আছে এই সুস্বাদু ফলে?

পাকা তালে রয়েছে একাধিক ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিটামিন এ, বি, সি, জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এর সঙ্গে আরও আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, যা শরীরকে নানা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।

পুষ্টির হিসাব: প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য পাকা তালে রয়েছে—

  • খাদ্যশক্তি: ৮৭ কিলোক্যালরি
  • জলীয় অংশ: ৭৭.৫ গ্রাম
  • শর্করা: ১০.৯ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম: ২৭ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস: ৩০ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৫ মিলিগ্রাম
  • এ ছাড়া রয়েছে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট, আয়রন, থায়ামিন এবং রিবোফ্লাভিন।

একনজরে পাকা তালের স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • ভিটামিনের আধার: তাল ভিটামিন বি-এর চমৎকার উৎস। তাই ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • ক্যানসার প্রতিরোধক: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণসমৃদ্ধ হওয়ায় তাল শরীরের ক্ষতিকর সেল নষ্ট করে ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে।
  • হাড় ও দাঁত মজবুত করে: তালে থাকা প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • পেটের সমস্যা দূর করে: কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের নানা রকম সমস্যা দূর করতে তালের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এতো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ তাল কীভাবে খাবেন?

তাল খাওয়ার নানা সুস্বাদু উপায় রয়েছে। নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় পদের কথা উল্লেখ করা হলো:

১. তালের বড়া (Taal er Bora)

তালের ঘন নির্যাসের সঙ্গে চালের গুঁড়ো, নারকেল কোরা, গুড় বা চিনি মিশিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তালের বড়া বা পিঠে। গ্রামবাংলায় এর কদর সবচেয়ে বেশি। এর সুবাস মন ভালো করে দেয়।

২. তালমিছরি (Tal Mishri)

দুলালের তালমিছরির নাম শোনেননি এমন বাঙালি কমই আছেন। খাঁটি তালের রস থেকে তৈরি তালমিছরি অনেক উপকারী। সর্দি-কাশি উপশম, অ্যানিমিয়া দূর করা, দৃষ্টিশক্তি বাড়ানো, কিডনি স্টোন, এবং শিশুদের ব্রেন ডেভেলপমেন্টে এর জুড়ি মেলা ভার।

৩. তালের জুস

তালের ক্বাথ, দুধ এবং চিনি মিশিয়ে স্বাস্থ্যকর তালের জুস বানানো যায়। ভাদ্র মাসের ভ্যাপসা গরমে এই জুস শরীরকে দারুণভাবে ঠান্ডা রাখে।

৪. তালের ক্ষীর বা চাঁছি

তালের রসকে জ্বাল দিয়ে চাঁছি বানানো হয়। আবার দুধ জ্বাল দিয়ে ক্ষীর বানিয়ে তার সাথে তালের রস মিশিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তালের ক্ষীর, যা বাঙালির এক অতি প্রিয় মিষ্টি পদ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. তালের প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা কী কী?

তাল ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের দারুণ উৎস। এটি হাড় মজবুত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

২. তালমিছরি খেলে কী উপকার হয়?

তালমিছরি খেলে সর্দি-কাশি উপশম হয়, পেটের সমস্যা দূর হয়, অ্যানিমিয়া কমে এবং ছোট শিশুদের ব্রেন ডেভেলপমেন্টে বিশেষ সাহায্য হয়।

৩. কোন মাসে পাকা তাল পাওয়া যায়?

সাধারণত বাংলা বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী ভাদ্র মাসে তাল পাকতে শুরু করে, তাই এই সময় তালের নানা রকম সুস্বাদু পদ খাওয়ার চল রয়েছে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in