দিনহাটা থানায় প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহকে ম্যারাথন জেরা, তদন্তে গতি বাড়ালো পুলিশ
সমীর হোসেন, দিনহাটা: পুরসভার আবাস যোজনায় সরকারি টাকা তছরুপ, জালিয়াতি এবং আর্থিক আত্মসাতের মামলায় ধৃত প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহকে নিয়ে তদন্তের গতি নাটকীয়ভাবে বাড়াল রাজ্য পুলিশ। শনিবার সকালে দিনহাটা থানায় পৌঁছে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই হাইপ্রোফাইল জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে থানা চত্বর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
থানায় হাজির কে. জয়রামন ও জেলা পুলিশ সুপার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের পদস্থ আধিকারিক তথা আইপিএস (IPS) কে. জয়রামন এবং কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার (SP) জসপ্রীত সিং এক বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে আচমকাই দিনহাটা থানায় হাজির হন। ১৭ জুন কলকাতায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই উদয়ন গুহ দিনহাটা থানার লক-আপে রয়েছেন। এদিন শীর্ষ আধিকারিকেরা সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের ঘরে গিয়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকার এই পুর-আবাস দুর্নীতির উৎস এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জানতে উদয়ন গুহকে একের পর এক প্রশ্নবাণে কোণঠাসা করেন বলে সূত্রের খবর।
কলকাতায় গ্রেফতার ও সাড়ে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন কলকাতার ফুলবাগান থানা এলাকা থেকে পুলিশ চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে গ্রেফতার করেছিল উদয়ন গুহকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সরকারি আবাসন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তছরুপ ও জাল নথির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির হদিস পেয়েছে পুলিশ। এরপর ১৮ জুন ব্যাপক জনরোষ এবং ক্ষোভের মধ্যে দিয়ে তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের (Police Custody) নির্দেশ দেন।
তদন্তে মিলতে পারে বড়সড় তথ্য!
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, সরকারি টাকা কোন কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে কোথায় পাঠানো হয়েছিল এবং এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সুবিধাভোগী (Beneficiaries) আর কারা কারা, সেই সংক্রান্ত নথিপত্র ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কে. জয়রামনের মতো দুঁদে অফিসারের নেতৃত্বে এই ম্যারাথন জেরা থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত থাকা আরও কিছু রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রাক্তন মন্ত্রীর এই পুলিশি হেফাজতের দিন যত এগোচ্ছে, দিনহাটা তথা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। পরবর্তী আদালতে তোলার দিনে পুলিশ নতুন কোনও তথ্য পেশ করে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।