Dinhata News: আঙুলের ছাপ নিয়ে আবাস যোজনার কাটমানি লুট! দিনহাটায় পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদন, দিনহাটা: আবাস যোজনার (Awas Yojana) ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রাজ্যে নতুন নয়। কিন্তু এবার কাটমানি আদায়ের যে অভিনব ও ভয়ংকর পদ্ধতির অভিযোগ উঠল কোচবিহারের দিনহাটায়, তা শুনে কার্যত চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ মানুষের। উপভোক্তাদের কার্ড ব্যবহার করে বাড়িতে বায়োমেট্রিক মেশিন বসিয়ে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কাটমানির টাকা তুলে নেওয়ার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দিনহাটা বিধানসভার ২ নম্বর ব্লকের বড় শাকদল অঞ্চলের অন্তর্গত ৭৩ নম্বর বুথের দুরাচাপরী গ্রামে। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের নাম রিঙ্কু বর্মন। রবিবার সকাল থেকেই এই দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা গ্রাম।
আঙুলের ছাপ নিয়ে অ্যাকাউন্ট সাফ
বিক্ষোভরত গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুরাচাপরী গ্রামে মোট ১১৩ জন গরিব মানুষ আবাস যোজনার ঘর পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘর পাওয়ার আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় যখন পঞ্চায়েত সদস্য রিঙ্কু বর্মন কাটমানি চাইতে শুরু করেন। অভিযোগ, তিনি নিজের বাড়িতে একটি বায়োমেট্রিক মেশিন বসিয়েছিলেন। এরপর উপভোক্তাদের ডেকে এনে তাঁদের লিঙ্ক করে আঙুলের ছাপ নিয়ে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলে নেন। সহজ কথায়, কাটমানি দিতে অস্বীকার করার কোনো উপায়ই তিনি রাখেননি।
পাড়ায় সমাধান প্রকল্পেও ১০ লাখ টাকার দুর্নীতি!
আবাস যোজনার পাশাপাশি সরকারি 'পাড়ায় সমাধান' (Paray Samadhan) প্রকল্প নিয়েও বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, ওই গ্রামে পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও বাস্তবে এক টাকারও কোনো কাজ হয়নি। পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন রানু বর্মন, শচীন বর্মন সহ অন্যান্য গ্রামবাসীরা। তাঁরা স্পষ্ট জানান, "আমাদের আঙুলের ছাপ নিয়ে জালিয়াতি করে টাকা তোলা হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের ওই ১০-২০ হাজার টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। সেই সঙ্গে পাড়ায় সমাধান প্রকল্পের ১০ লাখ টাকার সম্পূর্ণ হিসেব প্রশাসনকে দিতে হবে।"
বাড়ি তালাবন্ধ করে পলাতক অভিযুক্ত
রবিবার সকালে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য রিঙ্কু বর্মনের খোঁজে তাঁর বাড়িতে যাওয়া হলে দেখা যায়, পুরো বাড়ি তালাবন্ধ। বাড়িতে কেউ নেই। গ্রামবাসীদের দাবি, দুর্নীতির কথা জানাজানি হতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনহাটার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসন এই অভিনব জালিয়াতি ও কাটমানি চক্রের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।
দিনহাটার আবাস যোজনা দুর্নীতি (FAQ)
প্রশ্ন: দিনহাটার দুরাচাপরী গ্রামে পঞ্চায়েত সদস্য কীভাবে কাটমানি নিয়েছেন বলে অভিযোগ?
উত্তর: গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্য রিঙ্কু বর্মন নিজের বাড়িতে বায়োমেট্রিক মেশিন বসিয়ে উপভোক্তাদের কার্ডের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ নিয়ে সরাসরি অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন।
প্রশ্ন: 'পাড়ায় সমাধান' প্রকল্প নিয়ে কী অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: গ্রামবাসীদের দাবি, দুরাচাপরী গ্রামে 'পাড়ায় সমাধান' প্রকল্পে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি এবং পুরো টাকাটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: আবাস যোজনায় ওই গ্রামে কতজন ঘর পেয়েছিলেন?
উত্তর: স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামে মোট ১১৩ জন গরিব মানুষ আবাস যোজনার ঘর পেয়েছিলেন এবং অভিযোগ, তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই এই পদ্ধতিতে কাটমানি নেওয়া হয়েছে।
দিনহাটা, সিতাই, কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের সমস্ত লোকাল খবর, ক্রাইম রিপোর্ট এবং মেগা ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!