সংবাদ একলব্য: নেপালে ভারত থেকে আনা ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্যের উপর বাধ্যতামূলক কাস্টমস শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা দিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে সরকারকে আপাতত এই শুল্ক আদায় বন্ধ রাখতে বলেছে।
বালেন শাহ সরকারের কড়া নিয়ম
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ (Balen Shah) নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকার ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে আনা ১০০ নেপালি রুপির বেশি দামের পণ্যের উপর বাধ্যতামূলক কাস্টমস ডিউটি কার্যকর করতে শুরু করে। এই নিয়ম মূলত আগে থেকেই আইনে থাকলেও, এপ্রিল ২০২৬ থেকে তার কঠোর প্রয়োগ শুরু হয়। সীমান্তে আর্মেড পুলিশ ফোর্স (APF) ও কাস্টমস বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি বাড়ায়। ফলে ভারত থেকে আনা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস—যেমন বিস্কুট, মশলা, পোশাক, ওষুধ বা গৃহস্থালির ছোট পণ্য—নিয়েও সাধারণ মানুষকে শুল্ক দিতে হচ্ছিল।
সীমান্তে হয়রানি ও অসন্তোষ
ভারত-নেপাল সীমান্ত প্রায় ১,৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং বহু সীমান্তবর্তী পরিবার প্রতিদিনের বাজারের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে তরাই-মধেশ অঞ্চলের মানুষ ভারতীয় বাজার থেকে কম দামে নিত্যপণ্য কিনে থাকেন। নতুন কড়াকড়ির ফলে সীমান্তে সাধারণ মানুষের ব্যাগ তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ছোটখাটো পণ্যের উপরও শুল্ক আরোপ শুরু হয়। এতে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তবর্তী ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন। ভারতের দার্জিলিং, ধর্চুলা-সহ বিভিন্ন সীমান্ত বাজারে নেপালি ক্রেতার সংখ্যা কমে যায় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ
নেপালের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হরি প্রসাদ ফুয়াল ও টেক প্রসাদ ধুঙ্গানার বেঞ্চ অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছে, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সরকার এই শুল্ক আদায় করতে পারবে না। আদালতে দায়ের হওয়া রিট আবেদনে বলা হয়, ১০০ রুপির বেশি পণ্যের উপর বাধ্যতামূলক শুল্ক আরোপ নেপালের Customs Act, 2081-এর কিছু ছাড় সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আবেদনকারীদের দাবি, সরকার আইনকে ভুলভাবে প্রয়োগ করছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ
এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেপালের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের বহু সংগঠন এই নীতিকে "অবাস্তব" ও "সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে" বলে সমালোচনা করেছে। কিছু মহল একে "অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য অবরোধ" বলেও আখ্যা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার মূলত রাজস্ব ফাঁকি ও ছোট আকারের চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেয়। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব পড়ে সীমান্তের সাধারণ নাগরিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, চূড়ান্ত রায়ে নেপালের ভবিষ্যৎ সীমান্ত বাণিজ্য নীতির দিক অনেকটাই নির্ভর করবে।
দেশ, বিদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ