নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের মুকুটে জুড়তে চলেছে আরও একটি ঐতিহাসিক সাফল্যের পালক। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে নেদারল্যান্ডস থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে একাদশ শতকের চোল সাম্রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তাম্রপত্র (Copper Plates)। শনিবার নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়ে এই তাম্রপত্র হস্তান্তরের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে প্রতিটি ভারতীয়র জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, "সমস্ত ভারতীয়ের জন্য এটি এক আনন্দের মুহূর্ত! একাদশ শতকের চোল আমলের তাম্রপত্রগুলি নেদারল্যান্ডস থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে যোগ দেওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের।"
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ২১টি বড় এবং ৩টি ছোট প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত এই তাম্রপত্রগুলিতে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ভাষা তামিলে খোদাই করা লিপি রয়েছে। চোল সম্রাট প্রথম রাজেন্দ্র চোল তাঁর পিতা প্রথম রাজারাজা চোলের কাছ থেকে পাওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে এই তাম্রপত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যা চোলদের বিপুল গৌরব এবং সংস্কৃতির প্রমাণ দেয়। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে এই তাম্রপত্রগুলি সযত্নে সংরক্ষণ করার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকার এবং বিশেষত লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়কে (Leiden University) আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী।
কী এই চোল তাম্রপত্র বা 'লিডেন প্লেটস' (Leiden Plates)?
ইতিহাসবিদদের কাছে 'লিডেন প্লেটস' বা আনাইমঙ্গলম তাম্রপত্র নামে পরিচিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। একনজরে এর বিশেষ দিকগুলি হলো:
- গঠন ও লিপি: প্রায় ৩০ কেজি ওজনের এই তাম্রপত্রগুলি চোল রাজবংশের রাজকীয় সিলমোহর যুক্ত একটি ব্রোঞ্জের আংটি দ্বারা একত্রে বাঁধা রয়েছে। এর লিপি মূলত তামিল এবং সংস্কৃত ভাষায় লেখা।
- বিষয়বস্তু: তাম্রপত্রগুলিতে তামিলনাড়ুর নাগাপত্তিনামের 'চূড়ামণিবর্মণ বিহার' নামক একটি বৌদ্ধ মঠকে আনাইমঙ্গলম গ্রাম অনুদান দেওয়ার রাজকীয় নির্দেশিকা লিপিবদ্ধ রয়েছে।
- ইতিহাস: ইতিহাস অনুযায়ী, হিন্দু সম্রাট প্রথম রাজারাজা চোল এই অনুদানের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা পরে তাঁর পুত্র সম্রাট প্রথম রাজেন্দ্র চোল এই তাম্রপত্রের মাধ্যমে আইনি রূপ দেন এবং স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
- নেদারল্যান্ডস যাত্রা: আঠারো শতকের গোড়ার দিকে, যখন নাগাপত্তিনাম ডাচদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন ফ্লোরেনটিয়াস ক্যাম্পার নামক এক ডাচ মিশনারি এই তাম্রপত্রগুলি নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যান। পরবর্তীতে এটি লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখানেই সংরক্ষিত ছিল।
ভারত সরকার ২০১২ সাল থেকে এই অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের নিরলস কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং ইউনেস্কোর (UNESCO) ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিটির হস্তক্ষেপে অবশেষে ভারতের দাবি মান্যতা পায় এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হলো। ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কূটনৈতিক মহল।
দেশ, বিদেশ ও জাতীয় গর্বের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ