কলকাতা, সংবাদ একলব্য: অষ্টাদশ রাজ্য বিধানসভার নতুন স্পিকার বা অধ্যক্ষ হতে চলেছেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। বৃহস্পতিবার বিজেপির পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে তাঁর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার পদের জন্য আনুষ্ঠানিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুভেন্দুর আস্থা রথীন্দ্রর ওপর
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে লেখেন, “অষ্টাদশ বিধানসভার অধ্যক্ষ বা স্পিকার পদপ্রার্থী হিসাবে রথীন্দ্র বসুকে মনোনীত করা হয়েছে। আমার স্থির বিশ্বাস, তিনি সর্বসম্মতিক্রমে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ হিসাবে নির্বাচিত হবেন।” বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের অন্যান্য বিধায়কদের উপস্থিতিতে রথীন্দ্র বসু তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিধানসভায় সংখ্যার নিরিখে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত হওয়ায়, কোচবিহারের এই বিধায়কের স্পিকার হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
ভাঙতে চলেছে অলিখিত প্রথা! পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্র
রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চমক। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল আমল— সাধারণত আইনজ্ঞ বা পেশায় আইনজীবী, এমন প্রবীণ সদস্যদেরই বিধানসভার স্পিকার হিসেবে মনোনীত করার অলিখিত প্রথা ছিল। অতীতে সৈয়দ আব্দুল মনসুর হবিবুল্লাহ, হাসিম আব্দুল হালিম কিংবা বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়— সকলেই ছিলেন আইনের পেশার সাথে যুক্ত। কিন্তু এবার সেই ধারা ভেঙে স্পিকারের চেয়ারে বসতে চলেছেন পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) রথীন্দ্র বসু।
সঙ্ঘের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে প্রথম বারের বিধায়ক
রথীন্দ্র বসু দীর্ঘ দিন ধরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বাজিমাত করেন তিনি। তৃণমূলের শক্তিশালী প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে পরাজিত করে প্রথম বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। আর প্রথমবারেই একেবারে বিধানসভার সর্বোচ্চ অভিভাবকের দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি।
"দল আমাকে যে বড় দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সাথে পালন করব", প্রতিক্রিয়া রথীন্দ্রর
বিজেপির পক্ষ থেকে স্পিকার পদপ্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর রথীন্দ্র বসু বলেন, “দল আমাকে যে বড় দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সাথে পালন করব। কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিধানসভার প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের পরামর্শ ও গাইডেন্স নেব।”
শুক্রবার এই নির্বাচনে বিরোধী দলগুলি অংশ নেবে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের এক ভূমিপুত্রকে বিধানসভার এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে বসিয়ে বিজেপি এক বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ