সংবাদ একলব্য: ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন মালদহের কালিয়াচকে বেনজির তাণ্ডব এবং ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও করার ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল পাণ্ডা বা 'মাস্টারমাইন্ড'। ধৃতের নাম মোফাক্কেরুল ইসলাম। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা। শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মালদহ পুলিশ এবং বেঙ্গল এসটিএফ (STF)-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
কীভাবে গ্রেফতার হলেন মোফাক্কেরুল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচকের ঘটনার পর গ্রেফতারি এড়াতে নিজের এলাকা উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে আত্মগোপন করেছিলেন মোফাক্কেরুল। সেখান থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে সোজা বেঙ্গালুরুতে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন তিনি। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ এবং মালদহ পুলিশের একটি দল আগেভাগেই বিমানবন্দরে পৌঁছে যায় এবং তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। তার সঙ্গে আক্রামুল বাদানি নামে আরও এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে কালিয়াচক কাণ্ডে মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম?
মোফাক্কেরুল ইসলাম পেশায় আইনজীবী এবং কর্মসূত্রে মূলত কলকাতায় থাকেন। তিনি আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম (AIMIM)-এর একজন সক্রিয় সদস্য। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার কেন্দ্র থেকে মিমের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন তিনি, যদিও পেয়েছিলেন মাত্র ৮৩১টি ভোট। এখন প্রশ্ন উঠছে, ইটাহারের বাসিন্দা এবং কলকাতায় কর্মরত একজন আইনজীবী কেন হঠাৎ মালদহের কালিয়াচকে গিয়ে এই বিশাল বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিলেন? এর নেপথ্যে কোনো সুগভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কী ঘটেছিল কালিয়াচকে?
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে বিবেচনাধীন আবেদনগুলির নিষ্পত্তির কাজে মালদহের কালিয়াচকে গিয়েছিলেন ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসার (যার মধ্যে ৩ জন মহিলা)। অভিযোগ, বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে তাঁদের ঘেরাও করে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ এবং হেনস্থা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সরাসরি সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দেন এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। শেষমেশ রাত ১২টার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে ওই বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করা হলেও ফেরার পথে তাঁদের গাড়িতে পাথর ও বাঁশ দিয়ে হামলা চালানো হয়।
ঘটনা নিয়ে বিজেপির প্রতিক্রিয়া
এই গ্রেফতারির পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, মূল উসকানিদাতা মোফাক্কেরুল গাড়ির বনেট থেকে ভাষণ দিয়ে মানুষকে খেপিয়ে তুলেছিল। তিনি আরও জানান যে, ধৃতের বাড়ি ইটাহারে এবং তৃণমূলের সংখ্যালঘু মোর্চার এক নেতার বাড়িও ওই একই জায়গায়। তাই এর পেছনে তৃণমূলের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা ভালো করে তদন্ত করে দেখার দাবি তুলেছেন তিনি।
এনআইএ (NIA) তদন্ত শুরু
কালিয়াচকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই এনআইএ (NIA) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ-এর আইজি পদমর্যাদার অফিসার সোনিয়া সিং ইতিমধ্যেই শহরে এসে পৌঁছেছেন। আগামী দিনে এই ঘটনায় আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং রাঘববোয়ালদের নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্য রাজনীতি, অপরাধ জগত এবং কালিয়াচক তদন্তের সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ