কলকাতা, সংবাদ একলব্য: আজ ৩ এপ্রিল, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ দিন 'গুড ফ্রাইডে' (Good Friday)। দিনটি 'হোলি ফ্রাইডে', 'গ্রেট ফ্রাইডে' বা 'ব্ল্যাক ফ্রাইডে' নামেও পরিচিত। যিশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়া এবং তাঁর মৃত্যু ও আত্মত্যাগের স্মরণেই এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, যে দিনটিতে যিশু খ্রিস্টকে চরম যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই শোকের দিনটিকে কেন 'গুড' বা ভালো বলা হয়? আসুন জেনে নেওয়া যাক গুড ফ্রাইডের ইতিহাস এবং এর পেছনের আসল তাৎপর্য।
গুড ফ্রাইডের ইতিহাস ও তাৎপর্য
খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ এবং ইতিহাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্টের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং তাঁর দেওয়া প্রেম ও শান্তির বার্তায় তৎকালীন ইহুদি ধর্মযাজকরা প্রমাদ গুনেছিলেন। যিশুরই এক শিষ্য জুডাস ইস্কারিওট মাত্র ৩০টি রুপোর মুদ্রার লোভে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ইহুদি নেতাদের প্ররোচনায় রোমান শাসক পন্টিয়াস পিলাত (Pontius Pilate) যিশুকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ক্রুশবিদ্ধ করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
শুক্রবার দিনেই যিশুকে কাঁটার মুকুট পরিয়ে, চাবুক মেরে, নিজের কাঁধে ভারী কাঠের ক্রুশ বহন করিয়ে কালভেরি বা গোলগোথা নামক পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর হাত ও পায়ে পেরেক পুঁতে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। দীর্ঘক্ষণ অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগের পর শুক্রবার বিকেলেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যিশুর এই চরম আত্মত্যাগ এবং মানুষের পাপ মোচনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার ঘটনাটিকেই এই দিনে স্মরণ করা হয়।
শোকের দিন হওয়া সত্ত্বেও নাম কেন 'গুড' ফ্রাইডে?
যিশু খ্রিস্টের মৃত্যুর মতো একটি বিষাদময় দিনকে 'গুড' বলা নিয়ে একাধিক মতবাদ রয়েছে:
- ভাষাগত বিবর্তন: ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ইংরেজিতে 'Good' শব্দটির অর্থ ছিল 'Holy' বা পবিত্র। সেই অর্থে এটি আসলে 'হোলি ফ্রাইডে' বা পবিত্র শুক্রবার।
- ঈশ্বরের দিন: অনেকের মতে, শব্দটি 'God's Friday' বা ঈশ্বরের শুক্রবার থেকে কালের নিয়মে বিবর্তিত হয়ে 'Good Friday'-তে পরিণত হয়েছে।
- মঙ্গলের প্রতীক: খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, যিশু নিজের জীবনের বিনিময়ে মানবজাতিকে তাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগের ফলেই মানুষের চরম মঙ্গল বা 'Good' হয়েছিল। তাই এই দিনটিকে ভালো বা পবিত্র দিন হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এই শুক্রবারের ঠিক তিনদিন পর রবিবার যিশু পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছিলেন, যা 'ইস্টার সানডে' (Easter Sunday) নামে পরিচিত।
কীভাবে পালিত হয় দিনটি?
গুড ফ্রাইডে কোনো উৎসব বা উদযাপনের দিন নয়, বরং এটি প্রার্থনা, উপবাস এবং শোক পালনের দিন।
- এদিন বিশ্বের সমস্ত চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। তবে চার্চের ঘণ্টা বাজানো হয় না।
- অনেক জায়গায় চার্চের বেদি এবং ক্রুশগুলিকে কালো বা বেগুনি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যা শোকের প্রতীক।
- যিশুর শেষ সাতটি বাণী (Seven Last Words) পাঠ করা হয় এবং ভক্তরা ক্রুশ চুম্বন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দেশ-বিদেশের ইতিহাস, ধর্মীয় তাৎপর্য এবং লেটেস্ট খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ