নয়াদিল্লি, সংবাদ একলব্য: কোভিড মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন থমকে থাকার পর অবশেষে দেশজুড়ে শুরু হলো জনগণনা বা সেন্সাস (Census 2027)। গত ১ এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছে দেশের ১৬তম এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম জনগণনার প্রথম পর্যায়ের মেগা কাজ। এই প্রথম পর্যায়কে বলা হচ্ছে 'হাউস লিস্টিং এবং হাউজিং অপারেশন' (HLO)। এই প্রক্রিয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ৩৩টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনার (RG&CCI) মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন, জনগণনার কাজ মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের (House Listing) কাজ চলবে।
কী কী প্রশ্ন থাকছে এই ৩৩টি প্রশ্নের তালিকায়?
এই পর্যায়ে মূলত নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান, বাসস্থান, পরিকাঠামো এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। উল্লেখযোগ্য ৩৩টি প্রশ্নের বিষয়বস্তুগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
- বাড়ির বিবরণ: বিল্ডিং নম্বর (পুরসভা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া), সেন্সাস হাউস নম্বর, এবং বাড়ির মেঝে, দেওয়াল ও ছাদ মূলত কোন উপাদান দিয়ে তৈরি। বাড়ির বর্তমান অবস্থা কেমন এবং তা কী কাজে ব্যবহৃত হয়।
- পরিবারের বিবরণ: পরিবারে বসবাসকারী মোট সদস্য সংখ্যা, পরিবারের প্রধানের নাম ও লিঙ্গ, তিনি তফশিলি জাতি/উপজাতি (SC/ST) বা অন্য কোনো শ্রেণিভুক্ত কি না, এবং পরিবারে কতগুলি বিবাহিত দম্পতির বাস।
- মৌলিক সুযোগ-সুবিধা: পানীয় জলের প্রধান উৎস, আলোর ব্যবস্থা, শৌচাগার ও স্নানাগার আছে কি না, নিকাশি ব্যবস্থা, রান্নাঘর এবং রান্নার প্রধান জ্বালানি (LPG/PNG ইত্যাদি)।
- সম্পত্তি ও প্রযুক্তি: রেডিও বা ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা টেলিফোন রয়েছে কি না। এছাড়া যাতায়াতের জন্য সাইকেল, স্কুটার, মোটরসাইকেল বা চারচাকা গাড়ি (Car/Jeep) আছে কি না।
- খাদ্য ও যোগাযোগ: পরিবারে মূলত কোন খাদ্যশস্য (Cereal) বেশি খাওয়া হয় এবং জনগণনা সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য একটি বৈধ মোবাইল নম্বর।
দেশের প্রথম 'ডিজিটাল সেন্সাস' এবং সেলফ-এনুমারেশন
সবচেয়ে বড় চমক হলো, এটি ভারতের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ 'ডিজিটাল সেন্সাস'। জনগণনার কর্মীরা এবার আর কাগজের ফর্মে নয়, বরং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করবেন।
এর পাশাপাশি, এবারই প্রথম নাগরিকদের 'সেলফ-এনুমারেশন' (Self-Enumeration) বা নিজে থেকে তথ্য দেওয়ার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ১৬টি আঞ্চলিক ভাষায় উপলব্ধ অফিসিয়াল পোর্টাল (se.census.gov.in)-এর মাধ্যমে পরিবারের প্রধান বা সদস্য নিজেদের তথ্য নিজেরাই জমা দিতে পারবেন। তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি ১৬-সংখ্যার ইউনিক আইডি (ID) তৈরি হবে। পরে জনগণনা কর্মীরা বাড়িতে এলে ভেরিফিকেশনের জন্য তাঁদের ওই আইডিটি দেখালেই হবে, এতে সময় অনেকটাই বাঁচবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে কী হবে?
এই 'হাউস লিস্টিং' পর্যায় শেষ হওয়ার পর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায় বা 'পপুলেশন এনুমারেশন' (Population Enumeration)। সেই চূড়ান্ত পর্যায়ে নাগরিকদের বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, মাতৃভাষা, শিক্ষা, পেশা, পরিযান (Migration) ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া এই ডিজিটাল জনগণনা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রকল্পগুলোর নিখুঁত রূপায়ণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জাতীয় স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর এবং জনগণনা সংক্রান্ত লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ