কলকাতা, সংবাদ একলব্য: আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পোলিং পার্সোনেলদের (প্রিসাইডিং অফিসার, ফার্স্ট পোলিং, সেকেন্ড পোলিং ইত্যাদি) ট্রেনিং শুরু হতে চলেছে। ভোটের ডিউটিতে যাওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু নতুন নির্দেশিকা ও নিয়মাবলী সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। চিফ ইলেক্টরাল অফিসারের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী এবারের ট্রেনিংয়ে যে বিষয়গুলির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ইভিএম ও ভিভিপ্যাট (EVM & VVPAT) হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং
- প্রিসাইডিং অফিসার এবং ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের জন্য ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট নিয়ে হাতে-কলমে (Hands-on) স্পেশাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- মকড্রিল সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর, অফিসারদের একটি 'স্যাটিসফ্যাকশন সার্টিফিকেট' (Satisfaction Certificate) জমা দিতে হবে।
২. ট্রেনিংয়ের সামগ্রী
- ফার্স্ট ট্রেনিংয়ের দিনেই প্রিসাইডিং অফিসার হ্যান্ডবুক, চেকলিস্ট (কী করবেন এবং কী করবেন না) এবং একটি সিনপটিক হ্যান্ডআউট প্রদান করা হবে।
৩. নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা
- ফর্ম ১৪এ (Form 14A): অন্ধ এবং অক্ষম ভোটাররা (Blind and infirm voters) কম্প্যানিয়ন নিয়ে ভোট দিলে, এই ফর্মের সঠিক ব্যবহার ও ভোটারের নামের তালিকা ইনপুট করা বাধ্যতামূলক।
- টেস্ট ভোট (Test Vote): রুল ৪৯এমএ (49MA) অনুযায়ী কেউ যদি দাবি করেন যে তাঁর ভোট অন্য জায়গায় পড়েছে, সেই সংক্রান্ত নিয়মাবলি।
- ফর্ম ১৭সি (Form 17C): ভোটের হিসাব বা অ্যাকাউন্টস অফ ভোটস সঠিকভাবে ফিলাপ করা এবং পোলিং এজেন্টদের মধ্যে তা ডিস্ট্রিবিউট করা।
- সিআরসি (CRC) এবং সিলিং: মকপোল শেষে ক্লোজ, রেজাল্ট এবং ক্লিয়ার (CRC) সঠিকভাবে করা এবং মকপোল স্লিপগুলো কালো কভারে ঢুকিয়ে সিল করা।
- মোবাইল ডিপোজিশন সেন্টার: প্রতিটি বুথে এবার ভোটারদের মোবাইল রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাউন্টার থাকবে।
- ইসিআই নেট অ্যাপ (ECI Net App): প্রিসাইডিং অফিসার মডিউলের মাধ্যমে যাবতীয় রিপোর্ট অনলাইনে জমা দেওয়ার প্র্যাকটিস করানো হবে।
৪. পোস্টাল ব্যালট (PB) এবং ইডিসি (EDC)
- ফার্স্ট ট্রেনিংয়ের দিনই ফর্ম ১২ (Form 12) এবং ফর্ম ১২এ (Form 12A) সংগ্রহ করে ফিলাপ করে জমা দিতে হবে।
- সেকেন্ড ট্রেনিংয়ের দিন ইডিসির জন্য যোগ্য প্রার্থীরা ফর্ম ১২বি (Form 12B) সংগ্রহ করবেন। কোনো কারণে ওই দিন না পেলে ডিসি (DC) থেকে ভোটের আগের দিন (P-1 day) তা কালেক্ট করতে হবে।
৫. নিয়োগপত্র এবং ব্যাঙ্ক ডিটেইলস যাচাই
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি (IFSC) কোড, পার্ট নম্বর, সিরিয়াল নম্বর এবং এপিক (EPIC) নম্বর সঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে হবে।
- কোনো ভুল থাকলে ফার্স্ট ট্রেনিংয়ের দিনই সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে জানিয়ে তা সংশোধন করে নিতে হবে, কারণ ওই অ্যাকাউন্টেই পারিশ্রমিকের টাকা আসবে।
- এছাড়া, আইডেন্টিটি কার্ডে নিজের ছবি লাগিয়ে ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে স্ট্যাম্প করিয়ে নিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো কোনো ভোটারের ভোট যেন বাদ না যায়। তাই ট্রেনিংয়ের দিন এই সমস্ত বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বুঝে নেওয়া পোলিং আধিকারিকদের দায়িত্ব।
বিধানসভা নির্বাচন এবং সরকারি কর্মীদের ডিউটি সংক্রান্ত সমস্ত জরুরি আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ